প্রয়োজনে কারাদণ্ড প্রাপ্ত ৯ আসামির বিরুদ্ধে আপিল: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

0
182

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ৭ খুন মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া ২৬ আসামি ছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রাপ্ত ৯ আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন। সোমবার দুপুরে ওয়াজেদ আলী খোকন এসব কথা জানান। এর আগে সোমবার সকালে নূর হোসেন, র‌্যাবের তিন কর্মকর্তা লেফটেন‌্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, লেফটেন‌্যান্ট কমান্ডার এম এম রানা ও মেজর আরিফ হোসেনসহ ২৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি ৯ জনকে সাত থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে তিনজন পলাতক। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের কাছ থেকে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করে হত্যার অপরাধে আসামিদের সাজার এই রায় দেন আদালত। পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, রায় ঘোষণার পর অভিযুক্ত নূর হোসেন ও তারেক সাঈদের ভাবলেশহীন আচরণ প্রমাণ করে তারাই খুনী। পেশাদার খুনীরাই খুন করার পর হাসি-ঠাট্টা-তামাশা করতে পারে। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের বিচারিক আদালতে একটি নির্ভুল রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আমি আশা করি উচ্চ আদালতেও আমরা ন্যায় বিচার পাবো। অনেক সুষ্ঠুভাবে বিচার কার্য সম্পাদিত হয়েছে। বিচার চলাকালে আমি কোন ধরনের চাপ অনুভব করি নাই। মামলাটি পরিচালনা করার ক্ষেত্রে যদি কোন চাপ বা তদবির থাকতো তাহলে এ মামলাটি ৮ মাসের মধ্যে ১০৬ জন্য সাক্ষীর সাক্ষ্য করে যুক্তিতর্ক করে রায়ের পর্যায়ে আনা যেত না। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিচার ব্যবস্থা সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা পর্যন্ত ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি বলে আদালত সব আসামিকেই সাজা দিয়েছে। এ রায়ে আমরা খুশি। নারায়ণগঞ্জবাসী তো বটেই,  দেশ ও বিশ্ববাসী তাকিয়ে ছিল এ রায়ের প্রতি। আমি মনে করি, মানুষ ও বিচারপ্রার্থীদের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছে এ রায়ে। রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী আরও জানান, বহুল আলোচিত এ রায় প্রমাণ করেছে আইন সকলের চোখে সমান। কে কোন বাহিনীর, কোন সংস্থার, কে জনপ্রতিনিধি ও কে রাজনীতিক সেগুলো আদালতের কাছে বিবেচ্য না। দেশের সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সে যত বড় প্রভাবশালী বা চেয়ারের মালিক হোক। দায়িত্ব প্রাপ্ত এলিট ফোর্স হিসাবে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং দায়িত্ব থেকে সরকারি পোশাক করে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড তারা করেছে।  আদালত যে কোন ব্যক্তিকে বিচারের সম্মুখীন করতে পারে এ রায়ের মাধ্যমে তা প্রমাণ হলো।

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY