মতিঝিলে রাজউকের হাজার কোটি টাকার জমি বেদখল

0
207

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চার শতাধিক কাঠা জমি বেদখল হয়ে আছে। রাজউকের হিসাব অনুযায়ী, বেদখল হওয়া জমির দাম হাজার কোটি টাকার ওপর। জমি উদ্ধারে ব্যর্থ রাজউক বেশ বিপাকেই পড়েছে। নিলামের মাধ্যমে প্লট বিক্রির উদ্যোগ নিলেও ক্রেতা পাওয়া যায়নি। বরং এই জমিতে ক্ষমতার দাপটে যে যেভাবে পারছে দোকানপাট তুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজউক চেয়ারম্যান এম. বজলুল করিম চৌধুরী অবশ্য মূল্যবান প্লটগুলো উদ্ধারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি ”মিরর বাংলা নিউজ”কে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে রাজউকের সম্প্রসারিত এলাকায় আমরা সার্ভে করবো। সার্ভে রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সরকারি জমি তো আর বেদখল রাখা যায় না। এটা উদ্ধার করতে হবে।’ এক সময় মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার পূর্বদিকে (ওয়াপদা ভবন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে) ডোবা-নালা ও সেগুনবাগিচা খাল ছিল। নব্বই দশকে খালের ওপর বক্স কালভার্ট তৈরি করে ঢাকা ওয়াসা। এই বক্স কালভার্টের দু’পাশের জমি নিজেদের দাবি করে ‘মতিঝিল সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক এলাকা’ প্রকল্প হাতে নেয় রাজউক। সে অনুযায়ী প্রায় অর্ধশত বাণিজ্যিক প্লটের লে-আউট প্ল্যানও তৈরি করা হয়। কিন্তু মূল্যবান এই জমি বেদখল হয়ে যাওয়ায় রাজউকের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘মতিঝিল সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক এলাকা’ প্রকল্পের বেশিরভাগ জমি বেদখল হয়ে আছে। শতাধিক টিনের দোকানে গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ খোলা হয়েছে। সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে আবুল মোটরের মালিক মো. আবুল হোসেন ”মিরর বাংলা নিউজ”কে বলেন, ‘ঢাকা শহরের এত দামি এলাকায় রাজউকের জমি কারা দখল করতে পারে বোঝেন না? ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে ব্যবসা করছি। এ জমি রাজউকের। কিন্তু নেপথ্যে অনেক ক্ষমতাবান লোক থাকায় রাজউক তার জমি দখলে নিতে পারছে না।’ জানা গেছে, কয়েকবার চেষ্টা করেও জমি উদ্ধার করা যায়নি। সর্বশেষ ২০১৫ সালে প্রকল্পের প্লটগুলো বিক্রির জন্য নিলামের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। সে বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৯টি বাণিজ্যিক প্লট বাংলাদেশি আবাসিক ও অনাবাসিক নাগরিকদের মধ্যে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিতে সংবাদপত্রে নিলামের বিজ্ঞাপন দেয় রাজউক। প্লটগুলো ২ থেকে ৭৭ কাঠা আয়তনের এবং ৩৯টি প্লটে জমির পরিমাণ ৪১৩.৫৮ কাঠা। রাজউক সূত্র জানিয়েছে, নিলামে ডাকা জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি কাঠা প্রায় আড়াই কোটি টাকা। সে হিসাবে ৪১৩ কাঠার দাম হাজার কোটি টাকার ওপর। কিন্তু বর্তমানে এ জমির দাম আরও বেশি বলে মন্তব্য করেছেন রাজউকের ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিলামে দর দাখিলের শেষ দিন ছিলো ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ। ওই দিন বিকালে টেন্ডার বাক্স খুলে মাত্র তিনটি আবেদন পাওয়া যায়। এর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায় ২/৯ নম্বর প্লটের জন্য। ৭৭.১৩ কাঠা আয়তনের এ প্লটের জন্য দর দাখিল করে একটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বাকি দু’টি প্লটের দর কাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় আবেদন বাতিল হয়ে যায়।  ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সে বছর (২০১৫) সাময়িক বরাদ্দপত্র দেয় রাজউক। প্লটের অবশিষ্ট মূল্য পরিশোধে সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই সময় এর মধ্যে পেরিয়ে গেলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্লটের মূল্য পরিশোধ করেনি। মতিঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্লট নিয়ে মানুষের অনাগ্রহ সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছি, প্লটগুলো বেদখল থাকার কারণেই কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY