সেতুর কাছে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে জমি-বাড়িঘর

0
214

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: বগুড়ার ধুনটে প্রভাবশালীরা বাঙালি নদীর বেড়েরবাড়ি সেতুর কাছে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। এতে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু ও আবাদি জমি এবং বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা তাদের জমি, বাড়িঘর ও সেতু রক্ষায় বালু উত্তোলন বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ধুনটের বেড়েরবাড়ি গ্রামের রায়হান আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী চলতি অর্থ বছরে নিমগাছি ইউনিয়নের বাঙালি নদীর বেড়েরবাড়ি এলাকায় বালু মহাল ইজারা নিয়েছেন। নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বোরিং না করে বালু উত্তোলনের বিধান রয়েছে। কিন্তু বালু মহালের ইজারাদার রায়হান আহমেদ ও সাবেক ইউপি সদস্য নবাব আলীসহ কয়েকজন ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বোরিং করে বালু উত্তোলন করছেন। এভাবে বালু তুলে পাইপের মাধ্যমে সেতুর নিচে ফেলা হচ্ছে। সেখান থেকে ট্রাকে তুলে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। নদীর গভীর তলদেশ থেকে বোরিং করে বালু তোলায় নদীর গভীরতা বাড়ছে। এতে দুপাশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। তীরবর্তী আবাদি জমি ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আরসিসি ব্রিজটিও ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। নিয়ম অমান্য করায় ভ্রাম্যমান আদালত এর আগে দুবার ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। এরপরও প্রভাবশালী ইজারাদার স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বিধিবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেড়েরবাড়ি গ্রামের আজিবর রহমান, মোজাম শেখ প্রমুখ জানান, অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই তীরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বালু মহালের পরে আবাদি জমি ভাঙতে শুরু করেছে। এরপরও বালু তোলা বন্ধ হচ্ছে না। তারা আরও বলেন, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে তাদের অবশিষ্ট জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়া ব্রিজের পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় সেটি হুমকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও অজ্ঞাত কারণে তারা কোন পদক্ষেপ নেয় না। বালু মহালের ইজারাদার রায়হান আহমেদ ও সাবেক ইউপি সদস্য নবাব আলী বলেন, ‘নিয়ম মেনে ও স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করেই তারা বালু উত্তোলন করছেন।’ ধুনট উপজেলা প্রকৌশল কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ব্রিজ থেকে ৫০০ মিটার দূরে বালু মহল থাকার কথা। কিন্তু ব্রিজের কাছে ড্র্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলে পিলার ডেবে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেউ এ ব্যাপারে অভিযোগ করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘কিছুদিন আগে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছিল। সেখানে আবারও বালু উত্তোলন করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY