সাংবাদিকের মাথার দাম ২৯ হাজার ডলার!

0
265

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: রাখাইন রাজ্যের এক সাংবাদিক রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিয়ে প্রতিবেদন লিখে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছেন মিয়ানমারের একজন সাংবাদিক। রক্ষণশীল ও উগ্র জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধরা তার মাথার দাম ধার্য করেছে ২৯ হাজার ডলার৷ চলতি বছর মার্চে তার বাড়িতে বোমা হামলা চালানো হয়। তার পরিবারকে বাধ্য করা হয় ইয়াঙ্গুনে চলে যেতে৷ মৃত্যুঝুঁকিতে থাকা ওই সাংবাদিকের নাম মিনি মিন। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এইসব কথা উঠে এসেছে। ডয়চে ভেলেকে রাখাইন রাজ্যের দুরাবস্থার কথা জানিয়েছে মিন মিন। ‘হাসপাতালে একজন সন্তান সম্ভবা নারী তার স্বামীকে ফোন করতে চাইলে আমি আমার ফোন তাকে দিই৷ এসময় সেখানকার চিকিৎসক মেয়েটিকে মুসলিম উল্লেখ করে ঐ মেয়েটিকে সাহায্য না করার আহ্বান জানান। এই একটি কথাতেই মিন মিন-এর মনে আমূল পরিবর্তন আসে৷ মিন মিন জানান, চিকিৎসক ঐ নারীকে বলেন ফোনের জন্য যাতে সে তাকে পয়সা দেয়৷ মিয়ানমানরের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়েতে মিন মিন-এর বাস৷ যে এলাকাটি বৌদ্ধ ও মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে এখন বেশ পরিচিত৷ বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব দিতে নারাজ৷ অথচ এই রোহিঙ্গারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখাইন রাজ্যে বসবাস করছে৷ মিয়ানমারের বেশিরভাগ নাগরিকও সরকারের সঙ্গে একমত৷ তাদের মতে, রোহিঙ্গারা অবৈধ অভিবাসী৷ জাতিসংঘ বলছে, ১১ লাখ রোহিঙ্গা বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত সংখ্যালঘু৷ রোহিঙ্গা মুসলিমরা তাদের উপর নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে৷ মিন মিন জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডিপিএ-কে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি জেনে এসেছেন মুসলমানরা তাদের জন্য একটা হুমকি৷ তাই রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে রাখাইন রাজ্য ফিরে পেতে হবে তাদের৷ তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় থাকার পর মিন মিন বাস্তব অবস্থা বুঝতে পেরেছেন৷ হাসপাতালে চিকিৎসকের ঐ একটি কথায় তিনি উপলব্ধি করেছেন মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর কী ধরনের অত্যাচার হচ্ছে৷ এরপর থেকেই মিন মিন রাখাইন রাজ্যে শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন৷ তিনি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তুলে ধরেন সেখানকার রোহিঙ্গারা কী কী মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে৷ এমনকি চিকিৎসা করাতেও তাদের কী ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাও তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে৷ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছে৷ গৃহহীন হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার জন৷ অক্টোবরের ২৭ তারিখে তোলা এই ছবিতে ঐ রাজ্যের একটি গ্রামের বাজার দেখা যাচ্ছে, যেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল৷ শিশুরা সেখান থেকে বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করছে৷ সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মিন মিন বলেন, দু’পক্ষের কেউই কারো কথা শোনে না৷ তাই এ সমস্যার সমাধান হওয়া প্রায় অসম্ভব৷ তবে মিন মিন-এর প্রতিবেদনের কারণে রাখাইনের অধিবাসীরা তার উপর ক্ষুব্ধ হন৷ চলতি বছরের মার্চ মাসে তার সিতওয়ের বাড়িতে বোমা হামলা চালানো হয়৷ তার পরিবারকে ইয়াঙ্গুনে চলে যেতে বাধ্য করা হয়৷ বৌদ্ধ কট্টরপন্থিরা তার মাথার দাম ধার্য করেন ২৯ হাজার ডলার৷ এত হুমকির পরও মিন মিন পিছিয়ে থাকেননি৷ এই মাসেই নতুন পত্রিকা প্রকাশ করেছেন তিনি৷ নাম দিয়েছেন ‘রুট’ বা শেকড়৷ সেখানে লেখা প্রতিবেদনগুলোতে তিনি নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছেন৷ না বৌদ্ধ না মুসলিম কারো পক্ষেই কথা বলেননি তিনি৷রাখাইন রাজ্যটি অত্যন্ত দরিদ্রদের এলাকা৷ অক্টোবর থেকে এই এলাকাটিতে আবারও শুরু হয়েছে সংঘাত৷ মিয়ানমার সরকারের দাবি রোহিঙ্গারা ন’জন সীমান্ত রক্ষীকে হত্যা করেছে৷ ঐ ঘটনার পর রাখাইন রাজ্যের সাড়ে তিন হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা ঘিরে রাখে সেনাবাহিনী৷ তাদের দাবি, এ সময় রোহিঙ্গারা ছুড়ি আর দা নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়৷ ঐ ঘটনার পর থেকে অন্তত ২০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে৷ এ ঘটনায় নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷ এখনও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷

সৌজন্য: ডয়চে ভেলে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY