সিরাজগঞ্জে বাঁকা লাইন সোজা করার সময়সীমা পেছাল তৃতীয়বারের মতো

0
213

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের বাজার স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল বিভাগের লুপ-লাইনের নির্মাণে এখনও কসরত চলছে। ১১ ডিসেম্বর এটি নির্মাণ শেষে উদ্বোধনের দ্বিতীয় সময়সীমা ধরে দেওয়া হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় তৃতীয়বারের মতো সময়সীমা পিছিয়ে নির্ধারিত করা হয়েছে ১২ ডিসেম্বর। পাকশী রেল বিভাগের নির্বাহী প্রকেশলী আসাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্টেশন এলাকায় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনসহ অন্যান্য ট্রেনের ইঞ্জিন সরাসরি ঘোরোনোসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজের সুবিধার্থে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এ কাজ করে চলেছে পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগ। কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সওয়েল। সেইসঙ্গে রেলবিভাগ পাকশী ডিভিশনের শতাধিক ‘দক্ষ ও অভিজ্ঞ’ শ্রমিক। প্রায় আধ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের লুপ লাইন নির্মাণে তারা সিরাজগঞ্জে এসেছেন। স্থানীয়দের ভাষায়, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাঁকা লাইন সোজা করার এই ‘কসরত’ চলছে।  রেল বিভাগ সূত্র জানান, চলতি বছরের ৫ নভেম্বর কাজটি শুরু করার পর ২০ দিনের মধ্যে তড়িঘড়ি করে শেষ করা হয়। সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈশ্বরদী না গিয়ে বরং এ লুপ লাইনেই ইঞ্জিন ঘুরিয়ে সরাসরি যেন ঢাকা যেতে পারে, তার ব্যবস্থা করার জন্যেই এ প্রয়াস। গত ১ ডিসেম্বর এ লুপ লাইন উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু এর এক সপ্তাহ আগে ভারত থেকে আমদানীকৃত ১৩ বগীসহ নতুন সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ট্রায়াল দিতে গেলেই ফাঁস হয়ে যায় কাজে অবহেলার বিষয়টি।  নকশা ও পরিকল্পনা ছাড়াই আধখেঁচড়াভাবে নির্মিত ত্রটিপূর্ণ এ লুপ লাইনে ট্রায়াল ইঞ্জিনের ‘কাপলিং’ না খোলায় শেষ পর্যন্ত গাড়িটি আর ঘোরানো সম্ভব হয়নি। আর এ কারণে ক্ষেপে যান স্থানীয় সাংসদ প্রফেসর ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এবং রেল মহা-পরিচালক আমজাদ হোসেনসহ সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্যরা। এরপর পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের ডজন খানেক প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারের লোকজন বিগত ৩ সপ্তাহ থেকে দিনরাত কসরত করে চলেছেন। বাঁকা লুপ লাইন সোজা করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু সেই বাঁকা লুপ-লাইন আর কোনওভাবেই সোজা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা যায়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত তা আর সোজা হয়নি। আজ ১১ডিসেম্বর উদ্বোধনের দ্বিতীয় ডেডলাইন ছিল। সেটি আবার আরও একদিন পিছিয়ে আগামীকাল (১২ ডিসেম্বর) করা হয়েছে।      ঠিকাদারী প্রতিষ্টান ম্যাক্সওয়েল কোম্পানীর সুপার ভাইজার মো. গোলাম রব্বানী বলেন, শুরু থেকেই এ কাজের কোনও নকশা বা পরিকল্পনাই ছিল না। যখন যে যেমন এসে যেভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, ঠিক সেভাবে আদেশ মানা হয়েছে। স্থানীয় রেল বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পিডাব্লিউ-আই) আশরাফ উদ্দিন শনিবার দুপুরে ”মিরর বাংলা নিউজকে বলেন, কাজটির কোনও নকশা বা পরিকল্পনা ছিল না। পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী গত ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ এসে বাস্তব অবস্থা দেখে নকশা প্রণয়ন করেন। এরপর নকশা মাফিক বাঁকা লাইন সোজা করার চেষ্টা চলছে। শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে আসার পর ইঞ্জিনের কাপলিং খোলা যায় কি-না, তার জন্য দ্বিতীয় দফায় ট্রায়াল দেওয়া হবে।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে পাকশী রেল বিভাগের নির্বাহী প্রকেশলী আসাদুল ইসলাম বলেন, বাঁকা লাইন সোজার কাজ একেবারেই শেষ পর্যায়ে। আাশা করছি, রাতে ইঞ্জিনের কাপলিং খোলা সম্ভব হবে। আগামী ১২ ডিসেম্বর লুপ লাইন উদ্বোধনকে সামনে রেখে আমরা দিনরাত কাজ করে চলেছি। এ উপলক্ষে শনিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে রেলবিভাগ থেকে প্রচারণামূলক মাইকিং করা হচ্ছে।

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY