অভিবাসন আমাদের-তাদের বিষয় নয়: প্রধানমন্ত্রী

0
179

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অভিবাসন এখন আর কোনোভাবেই আমাদের-তাদের বিষয় নয়। এটা (অভিবাসন) সব মানুষের এবং রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি ও কল্যাণের বিষয়।’ শনিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় নবম গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (জিএফএমডি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অভিবাসন একটি জটিল মানবিক ব্যাপার। অভিবাসন ও অভিবাসীকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই।’ অভিবাসী সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ‘বাস্তববাদী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘একজন অভিবাসী শুধু একজন শ্রমিক নয়, অভিবাসী হওয়ার পেছনে তার একটি অসাধারণ গল্প আছে। অভিবাসী যখন তার পরিবার এবং দেশ ত্যাগ করে তখন তাকে অনেক কিছু বিসর্জন দিতে হয়। অভিবাসীরা তাদের উদ্ভাবনী শক্তি, শ্রম এবং সম্পদ দানের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছেন। তারা তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় অন্যের জন্য ব্যয় করেন। আমাদের অবশ্যই অভিবাসীদের দুঃখ-র্দুদশা দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে এবং কাজ করতে হবে।’  শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা অনেক সময় তাদের মানবিক বিষয়গুলো এবং মানুষ হিসেবে নুন্যতম অধিকারের বিষয়ে অবজ্ঞা প্রদর্শন করি। সাম্প্রতিক বছরগুলো অভিবাসী সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে গভীর মনযোগ আকর্ষণ এবং অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। আমরা এখন স্বীকার করি অভিবাসী বিভিন্ন সম্প্রদায়, অর্থনীতি এবং সমাজের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেন। শান্তি, স্থীতিশীলতা এবং প্রগতির জন্য অভিবাসন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও নিশ্চিত করার প্রয়োজন প্রতিটি অভিবাসী যেন মর্যাদা, নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন। যে কোনও পরিস্থিতিতে তাদের অধিকার যেন সুরক্ষা পায় সে ব্যবস্থাও করতে হবে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে আমি দেখে অবাক হয়েছি যে বিশ্ব আমাদের মাইগ্রেশন কমপ্যাক্ট প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে আমরা বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে অভিবাসী ও উদ্বাস্তু সংক্রান্ত ব্যাপক ভিত্তিক চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার জন্য কাজ করছি। যাতে তা ২০১৮ সাল নাগাদ জাতিসংঘে অনুমোদিত হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈচিত্র্যময় এবং এই সংযুক্ত বিশ্বে অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ। সব সমাজকে অনুধাবন করতে হবে। বৈশ্বিক উন্নয়ন রূপকল্প অভিবাসনকে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একইসঙ্গে আমাদের চাহিদা, প্রত্যাশা, নিরাপত্তা, উদ্বেগ ও সম্ভাবনাগুলোর মধ্যে বিধান করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মানুষ শুধু কাজের জন্য নয়, বহুবিধি কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিচরণ করে। বিশ্বায়নের এই যুগে বিপুল সংখ্যক মানুষের বিচরণ অব্যহত থাকবে। শুধু আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমরা কিভাবে মানুষের চলাফেরাকে আরও নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল করতে পারি। পাশাপাশি নিশ্চিত করার প্রয়োজন একজন ব্যক্তি যেন তার ইচ্ছে অনুযায়ী তার চলাফেরা করতে পারেন।’ বিশ্বের ১২৫টি দেশ, ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নাগরিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এবার ঢাকায় এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি হচ্ছে।

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY