রাজশাহীতে মাছ ও সবজির বাজার চড়া

0
279

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: রাজশাহীতে এ সপ্তাহেও কমেনি শীতকালীন সবজির বাজার দর। বাজারে নতুন পণ্যের আগমন হওয়ার সাথে সাথে প্রতি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকা হারে। তুলনামূলক হারে বেড়েছে মাছের দাম। বিক্রেতাদের মতে খাল বিল ও নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মাছের আমদানি কম হচ্ছে। শুক্রবার সকালে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায় এসব তথ্য।
ক্রেতাদের অভিযোগ বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ থাকার পরেও বেশি মূল্য দিয়ে পণ্য কিনতে হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহেই প্রতি পণ্যের ৫ থেকে ৭ টাকা হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে বিক্রেতারা জানান, আমদানী কম থাকায় বেশি দরে সবজি ক্রয় করতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতাদের কাছে বেশি  দরে পণ্য বিক্রয় করতে হচ্ছে। রাজশাহীতে যে সব সবজি উৎপন্ন হচ্ছে তার সিংহ ভাগই পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আর এ কারনে বাজারে সবজির যোগান কম পড়ে যাচ্ছে। আর তাই ক্রেতার চাহিদানুযায়ী পন্য সরবরাহ করতে গিয়ে অধিক মূল্য পড়ে যাচ্ছে প্রতি পণ্যে। এদিকে শীতে খাল বিলের পানি কম থাকায় মাছের আমদানি কম হচ্ছে বলে জানান তারা।
নগরীর সাহেব বাজারে গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে বেড়েছে কাঁচা সবজির দাম। বাজারে নতুন সবজি হিসেবে  এসেছে পেঁয়াজের ফুলকা, লাল মূলাসহ নতুন বাধাকপি। তবে নতুন সবাজি হিসেবে এসব পণ্যের দাম হাতের নাগালের বাইরে। ফুলকা ৮০ টাকা,লাল মূলা ৪০ টাকা এবং নতুন বাধাকপি ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা মাজদার আলী জানান, গত সপ্তাহের থেকে এ সপ্তাহে বাজারে সবজির আমদনি কমেছে। তাই বেশি দরে পাইকারী কিনতে হচ্ছে। একদিকে আমদানি কম আবার রাজশাহীতে যা সবজি উঠে তার কয়েক ভাগ সবজি ঢাকাতে চলে যাচ্ছে, এই জন্যই আমাদের পাইকারী বেশি করে কিনতে হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে সাহেববাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩৫ টাকা, কচুর লতি ৩৫ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, আলু ২৪ টাকা, শশা ৫৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, পটল ২৫ টাকা এবং মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, কুরিকচু ৩০ টাকা, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়াস ৪০, শিম ৬০ , ফুলকপি ৩৫ টাকা,কাঁচা কলা প্রতি হালি ২৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৮ থেকে ১০ টাকা, ঝিঙ্গা ৩৫ টাকা, গ্জর ৬০ থেকে ৭০টাকা, এবং লাউ প্রতি পিস ৩০ থেকে ৩৫ টাকা আর কুমড়া জালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রমের মাঠে এবার গরমের কারণে কৃষকের সবজির ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এদিকে সবজি রক্ষনাবেক্ষনে কৃষি কর্মকর্তরা নজরদারি কিভাবে দেয় বুঝিনা। সঠিক নজরদারির অভাবে সময়মতো পণ্য বাজারজাত করা যায়নি। ফলে আমাদের বেশি দরে কিনতে হচ্ছে আবার সামান্য লাভ করতে গেলেও ক্রেতার কাছে পণ্য মূল্য বেশি হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে মুদি ব্যবসায়ী রানা জানিয়েছেন, চালের দাম একটু উঠা নামা করে বাঁকি সব দ্রব্য সামগ্রীর দাম স্বাভাবিক রয়েছে । তবে আগামিতে তেলের দাম একটু বাড়তে পারে।
তিনি জানান, বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৩ টাকা, রসুন ১৮০ টাকা, আদা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ খেকে ১০০ টাকা। এছাড়া শুকনা মরিচ প্রতি ১০০ গ্রাম ২৪ টাকা ,হলুদ ১৮ টাকা, জিরা ৪০ টাকা, ধনিয়া ১৮ দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরবারহ আগের মত থাকায় শাকের দাম গত সপ্তাহের মতই আছে। শীত উপলক্ষে গত সপ্তাহের মতই নতুন নতুন শাক বাজারে এসেছে। তবে নতুন সরিষার শাক সবার নজর কেড়েছে। আর দামটাও সব শাকের থেকে একটু বেশি।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি লাল শাক ১৫ টাকা, সরিষা শাক ২৫ টাকা, কলমি শাক ১৮ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা, ডাটা শাক ২৫ টাকা, কচু শাক ১২ টাকা, সবুজ শাক ২৫ টাকা, পুই শাক ২০ টাকা এবং পালং শাক ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাক কিনতে আসা সুলতানা রাজিয়া জানান,শাক আমার পরিবারের প্রতিদিনের সবার প্রিয় একটি খাবার । তাই বাজারে আসলে শাক আমাকে নিতেই হয়, আজ সব শাকের পাশাপাশি নতুন সরিষা শাক কিনলাম।
বাজারে কার্প জাতীয় মাছের দাম আগের মত থাকলেও দেশি ও নদীর মাছের দাম একটু বৃদ্ধি পেয়েছে । তবে গত সপ্তাহের মতই এ সপ্তাহে সুমুদ্রের ভেটকি মাছ, রুপ চাঁদা, চাপিলা এবং বড় বাইন মাছ ক্রেতাদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে।। দেখতে সুন্দর হলেও দামটা আকাশ ছোঁয়া তাই মধ্যবিত্তরা শুধু দেখেই মনের তৃপ্তি মিটাচ্ছেন।
মাছ কিনতে সাজেদুর রহমান জানান, নদীর পাড়ে সেদিন দেখলাম বড় বাইন ছিপ দিয়ে ধরতে তাই আজকে বাইন কিনবো বলে এসেছি। কিন্তু বাজারে বাইন মাছের দাম বেশি।
সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা আইনুল জানান,কার্প জাতীয় মাছ বাদে দেশি এবং নদীর মাছের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর শুক্রবার একটু ক্রেতার সংখ্যা বেশি হয়। আর নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়াই মাছের আমদানি অনেক কম মূলত এই কারণেই মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে বাজারে কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০টাকা, চিতল ৪০০, রুই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১০০ থেকে ১২০ টাকা,পাঙ্গাস ৯০ থেকে বাটা ১৩০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, দেশি কৈ মাছ ৬০০ও হাইব্রিট কই ১৫০ টাকা, শোল মাছ ৫০০ টাকা, মৃক্রা ২৬০ টাকা, গ্রাস কার্প ১৭০ টাকা এবং মিরর কার্প ১৬০ টাকা তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পুকুর ও দিঘি থেকে সংগৃহীত মাছের দাম স্বাভাবিক থাকলেও নদী ও দেশি প্রজাতির মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে নদীর বড় চিংড়ি ৬০০ টাকা ও ছোট চিংড়ি ৩৬০ টাকা, পিউলি মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় কাটাপাতাসি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ঢেড়ে মাছ ৪৫০টাকা, পাবদা ৬০০টাকা, বোয়াল ৫০০ টাকা, বাছা মাছ ৬০০ এবং রিঠা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও আইড় ৫০০ টাকা, শিং মাছ ৫০০ টাকা, গুচি মাছ ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মায়া মাছ  গত সপ্তাহে ছিলো ২৫০ টাকা আজকের বাজারে তা এসে ৪২০ টাকা। বাজারে এ সপ্তাহে পদ্মার একটু বড় সাইজের ইলিশ উঠায় দাম টা ২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মার ও বরিশালের বড় আকারের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাহেব বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা শহিদুর জানান, কার্প জাতীয় মাছের বাজার আগের সপ্তাহের মতই থাকলেও দেশি মাছের দাম আজ একটু বেশি । তাই দেশি মাছ আজ একটু কম নিয়ে কার্প জাতীয় মাছ একটু বেশি কিনেছি।
এদিকে স্বাভাবিক রয়েছে মুরগির বাজার। মুরগি ব্যবসায়ী মিঠুন জানান, গত সপ্তাহের মত এ সপ্তাহে মুরগির দাম একই আছে। সাদা কক বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭০ টাকা, ব্রয়লার ১২৫ টাকা, দেশি মুরগি ৩০০, সোনালি মুরগি ২৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৭০ এবং হাঁস ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে বর্তমানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে।
ডাল ব্যাবসায়ী সাখাওয়াত বলেন, এ সপ্তাহে ডালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, কলাই ডাল ৮৫থেকে ১২০ টাকা, ছোলা ডাল ১২৫ টাকা, খেসারি ডাল ৭৮ থেকে ৬৫ টাকা, মটর ডাল ১৩০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা, লবন ৪০ টাকা, ময়দা ২৪ টাকা, পোলাও চাল ১১০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সূত্র: সিল্কসিটি নিউজ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY