গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা

0
247

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: রাজশাহীতে গণধর্ষণের মামলা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে আপস ও ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামকে অবশেষে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয়া হয়।  পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৯অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘গণধর্ষণের মামলা না নিয়ে ওসির আপস’ শিরোনাম সংবাদ প্রকাশিত হলে ওইদিনই এসপি কার্যালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একমাত্র তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। গত ২০ নভেম্বর নির্যাতিত মেয়েটি  পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার জবানবন্দি দেন তিনি।

সেখানেই মেয়েটি তদন্ত কর্মকর্তা সুমিত চৌধুরীর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ৩৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মেয়েটি প্রথমে গণধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

মেয়েটি তার জবানবন্দিতে বলেছেন,  পিল্লাপাড়া গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে রায়হানের (২৫) সঙ্গে  তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রায়হান তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ২৯ মে বিকেলে নওহাটা কলেজ মোড়ে ডেকে নেয়। পরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাতে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত এলাকায় আমবাগানে নিয়ে যায়। পরে রায়হান ফোন করে পিল্লাপাড়া গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে জুয়েল, সুবীর কসাইয়ের ছেলে শাহীনুর রহমান ও টিকুরীপাড়া গ্রামের মতলেবের ছেলে মেরাজকে ডেকে নেয়। ওই আমবাগানে তারা গিয়ে তাকে জোর করে বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে নেয়।

এসময় সে বাধা দিলে তারা মেরে ফেলারও  হুমকি দেয়। এরপর ধর্ষণ করা হয়। তার মাথার চুলও কেটে দেয় বখাটেরা। নির্যাতিত হওয়ার পর মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি দারুশা এলাকায় নিজেকে অবিষ্কার করেন। পরে মেয়েটির আর্তচিৎকার করলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

মেয়েটি আরো জানায়, পরদিন সকালে সে মামলা করতে পবা থানায় হাজির হয়। কিন্তুু ঘটনার বিবরণ শুনেও ওসি শরিফুল ইসলাম তাকে থানাতেই বসিয়ে রাখেন। সে কান্নাকাটি করে এ ঘটনার বিচার দাবি করে মামলা দায়ের করতে চায়। কিন্তু ওসি মামলা করতে মানা করেন। এরপর দিনভর তাকে থানার মধ্যে আটকে রেখে দেন। মেডিকেল টেস্টের কথা বললেও তা করতে দেননি ওসি।

ওইদিন মামলা না নিয়েই নির্যাতিত ও মেয়েটিকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরমধ্যে মামলা না করতে অভিযুক্তরা তাকে  বার বার নানাভাবে হুমকিও দেয়। এরপর দিন পুলিশের পক্ষ থেকে মেয়েটিকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। থানাতে বসেই গণধর্ষণের ঘটনা আপোষ করে দেন ওসি শরিফুল ইসলাম।

মেয়েটি জানিয়েছে, ওসি তাকে  জোর করে ৪৭হাজার টাকা দিয়ে আপসে বাধ্য করেছেন। কিন্তু পরে পুলিশের ভয়ে তিনি কোথাও আর অভিযোগ করেন নি। পরে তিনি শুনেছেন,  আসামীদের কাছে ওসি একলাখ ২০হাজার টাকা নিয়েছিলেন।
তদন্তে গণধর্ষণের ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ওসি শরিফুল ইসলামকে পুলিশের সকল অপারেশনাল ইউনিট থেকে প্রত্যাহারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে  তিনি কোনো মন্তব্য  করতে রাজি হন নি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY