নিজামীর প্লট বাতিল করেও দখলে নিতে পারছে না রাজউক

0
274

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর প্লটের বরাদ্দ বাতিল করলেও দখল নিতে পারছে না রাজউক। বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্তের পর এরই মধ্যে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। ফলে প্লটে নির্মিত ভবনটি নিজামীর পরিবারের দখলেই রয়ে গেছে। এদিকে একই দিনে বাতিল করা অন্য মানবতাবিরোধী অপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্লট এখন রাজউকের দখলে।

রাজউক চেয়ারম্যান এম. বজলুল করিম চৌধুরী সোমবার দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিজামী-সাঈদীর প্লট বাতিল হয়ে গেছে। এরপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জামায়াতের সাবেক আমির মানবতাবিরোধী অপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয় চলতি বছরের ১০ মে। এর প্রায় সাড়ে ৩ মাস পর গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত রাজউকের ০৭/২০১৬তম সাধারণ সভায় (বোর্ডসভা) বনানী আবাসিক এলাকার ১৮ নম্বর সড়কে নিজামীর ৬০ নম্বর প্লট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেলায় নিজামীর প্লট বরাদ্দে পাঁচটি ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়। ত্রুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে (১) প্লট বরাদ্দকালীন মূল হলফনামা না থাকা ও  জমা দেওয়া হলফনামার ফটোকপিতে নিজামীর সই না থাকা, (২) মিশন ডেভেলপারের আমমোক্তার হিসেবে রাজউকের অনুমোদন না পাওয়া, (৩) আবাসিক প্লটকে বাণিজ্যিক ব্যবহার, (৪) সরকারের অনুশাসন ছাড়াই নিজামীর নামে প্লট বরাদ্দ এবং (৫) পরবর্তী সময়ে পাওয়া সরকারের অনুশাসন রাজউকের বোর্ডসভায় (সাধারণ সভা) উপস্থাপন না করা।

উল্লেখ্য, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) নিজামী ছিলেন শিল্পমন্ত্রী।

রাজউকের একই বোর্ডসভায় (০৭/২০১৬তম) মানবতাবিরোধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্লটের বরাদ্দও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রধান কারণ ছিল পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে সাঈদী তার (প্লটের) মূল্য বাবদ কিস্তির টাকা পরিশোধ করেননি। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাঈদী যাবজ্জীবন কারাভোগ করছেন।

রাজউক জানিয়েছে, ২০০৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ৮৪৫৬ নম্বর কোডের মাধ্যমে সাঈদীর নামে প্লট বরাদ্দ দেয়। ২০০৪ সালের ২০ মার্চ সাঈদী রাজউক শাখা সোনালী ব্যাংকের ১০৩৭০ নম্বর রশিদের মাধ্যমে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। ২০০৫ সালের ১২ জুন রাজউক চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র জারি করে।

প্লটের চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র পাওয়ার পর সাঈদী দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধ করেননি। দ্বিতীয় কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা ছিল ২০০৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত। পরে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০০৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করা হলেও তিনি কিস্তি  পরিশোদে বিরত থাকেন।

রাজউকের এস্টেট শাখা জানিয়েছে, জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী বনানীতে পাঁচ কাঠা আয়তনের প্লট পাওয়ার পর জামায়াতপন্থী প্রতিষ্ঠান মিশন ডেভেলপারকে দিয়ে অংশীদারির ভিত্তিতে সেখানে ‘মিশন নাহার’ নামের ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী ভবনের ছয়টি ফ্ল্যাট পান নিজামী, বাকি ছয়টি নেয় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।

রাজউকের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘বনানীর ১৮ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর প্লটে ভবন নির্মাণের পর মিশন ডেভেলপার তাদের ভাগে পাওয়া ফ্ল্যাটগুলো বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। পাশাপাশি নিজামীর ফ্ল্যাটগুলোও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ভাগবাটোয়ারা হয়ে গেছে। এ কারণে প্লটের বরাদ্দ বাতিল হলেও ভবনটি রাজউকের নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ফ্ল্যাটগুলো ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেওয়ায় প্রতিটি ফ্ল্যাটের আলাদা দলিল হয়েছে। এ অবস্থায় ভবনের দখল নেওয়ার আগে প্রথমে এসব দলিল বাতিল করতে হবে। আর, দলিল বাতিল করলেই শুরু হবে আইনি জটিলতা।’ তিনি বলেন, ‘মানবতাবিরোধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হলে আইনের সংশোধনী দরকার।’

তবে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী প্লট বরাদ্দ নিলেও এর দখল নেননি। সেখানে কোনও বাড়িঘর না থাকায় খুব সহজেই তা রাজউকের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY