গৃহবধুকে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামীসহ ৩ জনের ফাঁসি

0
196

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: রাজশাহীতে গৃহবধূ সাথী ইয়াসমিন হত্যায় স্বামীসহ তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. মনসুর আলম আসামিদের উপস্থিতিতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামীর প্রত্যেকের ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
দণ্ড প্রাপ্তরা হলো, সাথী ইয়াসমিনের স্বামী আরিফ হোসেন, তার দুই ভাবি হানিফা হাসান ইভা ও মাহফুজা জান্নাত লাইবা। এ মামলার অপর আসামী আরিফের মা মর্জিনা বেগমকে খালাস দেয়া হয়েছে।
মামলা সূত্র মতে, ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে নগরীর সাধুর মোড় এলাকায় স্বামীর বাড়িতে সাথী ইয়াসমিন টেলিভিশন দেখছিলেন। ওই সময় আসামিরা তার গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন দেয়। এতে তার শরীরের ৯০ ভাগ পুড়ে যায়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাথীর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার আগে সাথী হাসপাতালে জবানবন্দি দিয়ে যান। এ ঘটনায় সাথীর বড় ভাই সুজন বাদি হয়ে বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনকে আসামী করা হয়। পুলিশ মামলার তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় আদালতে। সাথী নগরীর সাহাজিপাড়ার সাজ্জাদ হোসেনের মেয়ে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, হত্যার ঘটনার এক বছর আগে নগরীর বোয়ালিয়া রানীনগরের রহমান আলীর ছেলে আরিফ হোসেনের সঙ্গে নগরীর হেতম খাঁ এলাকার সাহাজিপাড়ার সাজ্জাদ হোসেনের মেয়ে সাথী ইয়াসমিনের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকে আরিফ হোসেন যৌতুকের জন্য সাথীর উপর নির্যাতন চালাত। এ কারণে বিয়ের কিছুদিন পর সাথী বাবার বাড়ি চলে যান। কিন্তু ঘটনার ৪/৫ মাস আগে আরিফ গিয়ে আবার তাকে নিয়ে আসে। এরপর কয়েকদিন ভালো আচরণ করলেও আবার যৌতুক দেওয়ার জন্য চাপ শুরু করে আরিফের পরিবার।
মামলার অভিযোগ আরও বলা হয়, ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল বিকালে আরিফ হোসেন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সাথীর উপর নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে তারা সাথীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হয়। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা গিয়ে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিনই সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
আদালতের পিপি মর্জিনা খাতুন জানান, ওই ঘটনায় সাথীর বড়ভাই সুজন হোসেন বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ দ-প্রাপ্ত তিনজন ও আরিফের মা মর্জিনা বেগমকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় মা মর্জিনা বেগমকে খালাস দেওয়া হয় বলে জানান পিপি মর্জিনা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY