বড় সহযোগিতার প্রত্যাশায় বাংলাদেশ

0
221

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: দীর্ঘ আলোচনার পর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকা আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। তার এ সফরে বড় সহযোগিতার প্রত্যাশা করছে ব‍াংলাদেশ।
সফরকালে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামো নির্মাণে অর্থায়ন এবং সামরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে চায় ঢাকা।

এ সফরকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫টি প্রকল্পে ২০ বিলিয়নেরও বেশি আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য চীনের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ১২ বিলি‍য়নেরও বেশি সহযোগিতার ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এখন পর্যন্ত চীনের জবাব না আসায় ঢাকা প্রস্তাবিত সকল প্রকল্পের বিষয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র।

গত মাসে চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন ১০-১৩ অক্টোবর ঢাকা সফর করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো এ তারিখ নির্দিষ্ট করে জানানো না হলে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভারতের গোয়ায় আগামী ১৫-১৬ অক্টোবর ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে ঢাকা ঘুরে যাবেন শি জিন পিং।

সূত্র মতে, আগামী ১৪ই অক্টোবর ঢাকা সফরে এসে ১৫ অক্টোবর ভারতের গোয়ায় যাবেন তিনি। সফরকালে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন চীনা প্রেসিডেন্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ব্রিকসের এ সামিটে যোগ দেবেন। ঢাকার আগে নেপাল সফরেও যাওয়ার কথা রয়েছে শি জিন পিংয়ের।

এদিকে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত কোন কোন প্রকল্পে চীন সহায়তা দিতে আগ্রহী সে বিষয়ে শিগগিরিই ধোঁয়াশা কেটে যাবে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, বন্ধুদেশ হিসেবে চীনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। এজন্য ২৫টি প্রকল্পেই চীনকে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছি। চীন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ।

চীনা প্রেসিডেন্টের সফরকে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহেই আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেই চীনের জবাব আশা করছে ঢাকা।

এ সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা। এর মধ্যে ব্লু ইকোনমি বিষয়ক সহযোগিতা, চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্য জাহাজ সংগ্রহসহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে চুক্তি ও সমঝোতা করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইম) ও ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব.) খোরশেদ আলম বাংলানিউজকে বলেন, “সমুদ্র সম্পদ আহরণ বা এ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কিংবা সক্ষমতা নেই বললেই চলে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারে দু’দেশ।”

সূত্র জানায়, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন; রাজশাহী ওয়াসার ‘সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রজেক্ট; সিস্টেম লস রিডাকশন বাই রিপ্লেসিং ৫ মিলিয়ন ইলেক্ট্র মেকানিক্যাল এনার্জি মিটার উইথ ইলেক্ট্রিক এনার্জি মিটার প্রকল্প, এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেঞ্জিং অব পাওয়ার সিসটেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া প্রজেক্ট, পদ্মা ব্রিজ রেল লিংক (ফেজ-১ ও ২) প্রকল্প, পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেন্দেনিং প্রোজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি,  কনস্ট্রাকশন অব ঢাকা আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং মর্ডানাইজেশন অব টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প।
এর আগে ২০১৪ সালে চীন সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেসময় চীনের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে আসেন তিনি। পরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষ থেকেও প্রেসিডেন্ট শিং জিন পিংকে আনুষ্ঠানিক দাওয়াত পাঠানো হয়।

সূত্র: বাংলা নিউজ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY