”শেখ হাসিনার বাংলাদেশ,ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ”

0
258

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত

সরকার হ্যামাকগুলাক ১০ টাকাত চাউল খাওয়াবে আর ওমরাগুলা হ্যামাক কার্ড দেয়ার কথা কয়য়া জোরপূর্বক একশ ৮০ টাকা করে নেছে (নিয়েছে)। দেশত কি এমারগুলার কোন বিচার নাই। এভাবেই আক্ষেপ করে সংবাদকর্মীকে পেয়ে কথাগুলো বলেন,পলাশী ইউনিয়নের মহিষাশহর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন। প্রত্যেকটি কার্ডের গায়ে লেখা রয়েছে“শেখ হাসিনার বাংলাদেশ,ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ”। এতকিছু লেখা থাকার পরেও টনক নড়েনি প্রতারকদের।
হতদরিদ্রদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য (ফেয়ারপ্রাইজ) বিতরণ কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় লালমনিরহাটের আদিতমারীতে কার্যক্রম শুরুর পূবেই কার্ড বিতরণে প্রত্যেকের কাছ থেকে একশ ৮০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলীর ছোট ভাই ডিলার শফিকুল ইসলাম ও একই ইউনিয়নের আরেক ডিলার জোবেদ আলীর বিরুদ্ধে।
জানাগেছে, হতদরিদ্রদ্যের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১০ হাজার ৫৪১টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। সম্প্রতি আদিতমারী উপজেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি। এদিকে ৮টি ইউনিয়নের কোথাও টাকার বিনিময়ে কার্ড বিতরণের অভিযোগ না উঠলেও টাকার বিনিময়ে কার্ড বিতরণের অভিযোগ উঠেছে পলাশী ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নে ৩ জন ডিলারের মাধ্যমে এক হাজার ৪শ ৬৫টি হতদরিদ্র পরিবার প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল ক্রয় করতে পারবেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা শওকত আলীর ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড থেকে ৪শ ৮৮টি কার্ডের বিপরীতে প্রত্যেক হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে একশ ৮০ টাকা করে আদায় করেছেন বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেন। একই অভিযোগ আনেন আরেক ডিলার জোবেদ আলীর বিরুদ্ধে। তিনি ১,৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড থেকে ৪শ ৮৮টি কার্ডেও বিপরীতে প্রত্যেকের কাছ থেকে একশ ৮০ টাকা করে আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পলাশী ইউনিয়নের মহিষাশহর গ্রামে কথা হয় বিউটি বেগম, কার্ড নং-১১৬,আলীমুল হক, কার্ড নং-৮১,ক্যাকার মিয়া,কার্ড নং-১৫,শামসুল হক,কার্ড নং-৫৭,নুরজাহান বেগম,কার্ড নং-০৫,নুরজাহান বেগম,কার্ড নং-১২০ এর সাথে। তারা জানান, প্রথমে কার্ডের জন্য একশ ৩০ টাকা করে আর গত সোমবার মহিষাশহর বাজারে কার্ড বিতরণের সময় তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে জোর পূর্বক আরও ৫০ টাকা করে আদায় করেন ডিলার শফিকুল ইসলাম ও জোবেদ আলী। এসময় তারা আক্ষেপ করে বলেন,সরকার হ্যামাকগুলাক ১০ টাকাত চাউল খাওয়াবে আর ওমরাগুলা হ্যামাক কার্ড দেয়ার কথা কয়য়া জোরপূর্বক একশ ৮০ টাকা নিয়েছে। দেশত কি কোন এমারগুলার বিচার নাই।
টাকার বিনিময়ে কার্ড বিতরণের বিষয়ে পলাশী ইউনিয়নের ডিলার শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে, তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আপনারা ভিডিও করেছেন, ভিডিও নিয়ে যা করার আপনারা করতে পারেন। এরপর মোবাইল ফোনটি কেটে দেন তিনি।
একই ইউনিয়নের আরেক ডিলার জোবেদ আলীর সাথে এ প্রসংগে কথা হলে তিনি জানান,চেয়ারম্যানের কার্ডগুলো আমি বিতরণ করেছি মাত্র। টাকা নেয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
টাকার বিনিময়ে ফেয়ার প্রাইজ কার্ড বিতরণ এ প্রসংগে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহীনুর আলম বলেন,বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY