ট্রেনে সিডিউল বিপর্যয়,ভোগান্তিতে যাত্রীরা

0
230

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: ঈদের কর্মস্থলে ফিরতেও নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরতর রাজশাহী অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে কর্মস্থলে ফিরতে ট্রেন এবং বাসের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। আর এ দুটি ক্ষেত্রেই ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন এ অঞ্চলের যাত্রীরা। ট্রেনে টিকিট কালোবাজারির পর এবার সিডিউলে বিপত্তি ঘটেছে।

  • এতে করে ঘন্টার পর ঘন্টা রেলস্টেশনে বসে কাটাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রীকে। অন্যদিকে বাসে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। সেখানেও টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, টিকিট এবং যাত্রীদের সেবা নিয়ে দুটি পরিবহণ ক্ষাতে কোনো নজরারি নাই। আর এতে করেই ইচ্ছে মতো টিকিট যেমন কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে, তেমনি যাত্রীদের হয়রানিও বেড়েছে কয়েক গুন।

সোমবার সকাল সাতটার দিকে রাজশাহী রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস আন্ত:নগর ট্রেনের অপেক্ষায় বসে আছেন শত শত যাত্রী। রেলস্টেশনজুড়ে যেন পা ফেলার জায়গা নাই। কিন্তু তখনো ট্রেনের দেখা পাননি যাত্রীরা। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে এসে পৌঁছে। কিন্তু তার আগেই স্টেশনে শত শত নারী-পরুষ থেকে শুরু করে শিশু ও বয়ষ্ক যাত্রীদেরও ভীড় প্রকট আকার ধারণ করে।

  • রাজশাহী স্টেশনে আসার পরে ট্রেনটি নিয়ে যাওয়া হয় রেল স্টেশনের অদূরে ওয়াস কক্ষে। এরপর সেখান থেকে ধুয়েমুছে ফের স্টেশনে আনতে সময় গড়িয়ে যায় আরো প্রায় ঘন্টা খানেক। শেষে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। অথচ ট্রেনটি সকাল সাড়ে সাতটায় ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

আর মাঝেকার এই সময়টুকু তিল ধারণের জায়গা না থাকা স্টেশনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় যাত্রীকে। ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট বা এক ঘন্টা আগে থেকেই স্টেশনে এসে হাজির হওয়া এসব যাত্রী আরো প্রায় এক ঘন্টা ভীড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেন।

  • ক্ষোভ প্রকাশ করে ফাহিমা খাতুন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘টিকিট কিনতেও ঝামেলা, আবার স্টেশনে এসে ট্রেন সময় মতো না ছাড়ার কারণে ঝামেলা কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। যেন মগের মুল্লুকে বাস করছি আমরা। কেউ দেখার নাই। যা খুশি তাই হচ্ছে, আর আমরা সাধারণ যাত্রীরা শুধু হয়রানি কষ্ট ভোগ করে পকেট থেকে টাকা গুনছি।

আরকে যাত্রী ইফতেখার জাহান বলেন, ‘এ স্টেশনে এসে বসে থাকারও জায়গা নাই। এর ওপর হাজারেরও বেশি যাত্রীর ভীড়ে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এখানে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকাও ভাল। তাও এতো কষ্ট হয়ত হবে না।’এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টার ট্রেনেও সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। ওই ট্রেনটিও ছেড়ে যায় প্রায় দেড় ঘন্টা দেরি করে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার ট্রেনও সময় মতো ছেড়ে যেতে পারেনি বলে নিশ্চিত করেছেন স্টেশন সুপারিন্টেডেন্ট জিয়াউর রহমান।
জানতে চাইলে রাজশাহী স্টেশনের সুপারিন্টেডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেন, অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপের কারণেই ট্রেনের সিডিউলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এটি দ্রুতই কাটিয়ে উঠবো আমরা। এ কারণে রাজশাহী স্টেশনে অপেক্ষামান যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোাহতে হয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

  • ঢাকা-রাজশাহীগামী বাসের ৪৫০ টাকার টিকিটে আদায় করা হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। তার পরেও ২১ তারিখ পর্যন্ত কোনো টিকিট নাই। আবার বেশি টাকা দিলে কালোবাজার থেকে ঠিকই টিকিট মিলছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

রাজশাহীতে ঈদ করতে বাড়িতে আসা কল্লোল হোসাইন নামের এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘তিন দিন ধরে ঘুরেও কাউন্টার থেকে টিকিট পায়নি। শেষে এক মামাতো ভাই ৬০০ টাকা দিয়ে কোথায় থেকে যেন একটি টিকিট সংগ্রহ করেছে দেশ ট্রাভেলসের। সেই টিকিটেই আজ (গতকাল) ঢাকা যাচ্ছি।

  • অন্যদিকে আন্ত:নগর বাসগুলোতেও ১৫০ টাকা ভাড়ার স্থলে আদায় আদায় করা হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা করে। কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি আদায় করছে বাসের সুপারভাইজাররা। এমন অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।

জানতে চাইলে রাজশাহী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন রবি বলেন, ‘ঢাকাগামী বাসগুলোতে ৫০ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। এর বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে আমার জানা নাই। তবে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY