ভোগান্তিতে যাত্রীরা: ঢাকা-রাজশাহী ৫ ঘন্টার পথে পার হচ্ছে ২১ ঘন্টা

0
282

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: ঢাকা থেকে রাজশাহী শহরের দূরুত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার। ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে গাড়ী চললে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগার কথা বড় জোর সাড়ে চার ঘন্টা।

সেখানে রাস্তায় বিরতীর ৩০ মিনিট বাড়িয়ে ৫ ঘন্টাতেই ঢাকা থেকে রাজশাহীতে যাওয়া যায়। একটু স্বাভাবিক পরিস্থিতি নৈশ কোচগুলো যাতায়াতের জন্য এরকম সময় নেই। কিন্তু সেখানে ৫ ঘন্টার স্থলে ১০ ঘন্টা ১৫ ঘন্টাতেও যাওয়া যায়নি গত শুক্রবার থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত। এ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় উত্তরাঞ্চলগামী হাজার হাজার যাত্রীকে।

184705jam_kalerkantho_picতবে আশার কথা হলো, গতকাল শনিবার ভোরে যেসব গাড়ী রাজশাহীর উদ্দেশে ছাড়ে, সেগুলো ৭-৮ ঘন্টাতেই রাজশাহীতে পৌঁছে। পরিস্থিতি এমন থাকলে ঈদের আগে বাকিটা সময় অনেকটা স্বাচ্ছন্দেই বাড়ি ফিরতে পারবেন উত্তরাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বুধবার থেকেই ঢাকা বাস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামতে থাকে। সেইসঙ্গে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে সিরাজগঞ্জ-টাঙ্গাইল হয়ে গবাদি পশুবাহী ট্রাকগুলো ঢুকতে থাকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় জেলা শহরে। এরই চাপ পড়ে গিয়ে মহাসড়কে। বিশেষ করে শুক্রবার সকাল থেকে ছুটির দিনে ব্যাপক চাপ পড়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে। ঢাকা থেকে একেবারে যমুনা সেতু পর্যন্তই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

এতে রাস্তায় আটকা পড়ে হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও গবাদিপশুবাহী যানবাহন। এর ফলে ,শুক্রবার সকালে ঢাকা বা রাজশাহী থেকে যে যানবাহনগুলো ছেড়ে যায়, সেগুলো পৌঁছাতে অন্তত ১৬ থেকে ২১ ঘন্টা বা তার চেয়েও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে রাস্তার মাঝে।

images
হানিফ পরিবহণের চালক সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি যাত্রীবাহী বাস নিয়ে রাজশাহী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুক্রবার সকাল ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেই বাস নাটোরের বনপাড়া পার হয়েই একটু একটু করে যানজটের মধ্যে পড়তে থাকে। তবে সিরাজগঞ্জ ও যমুনা সেতু পার হয়ে টাঙ্গাইলের শুরু থেকেই ব্যাপক যানজটের মধ্যে পড়ে। এক যানজট ঠেলে ঠেলে পার হতে গিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে ওই বাসের সময় লাগে প্রায় ১৬ ঘন্টা। ফলে বাসটি ঢাকায় গিয়ে পৌঁছে শুক্রবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে।
একই অবস্থা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রবাহী বাস ও এবং রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস ও গবাদি পশুবাহী ট্রাকগুলোর ক্ষেত্রেও সৃষ্টি হয় বলে জানান চালকরা।
রাজশাহীর সিটি বাইপাশ হাট থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ছেড়ে যাওয়া গরুবাহী একটি ট্রাক গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার গাবতলি হাটে গিয়ে পৌঁছে বলে দাবি করেন ট্রাক চালক আজগর হোসেন।

তিনি বলেন, টাঙ্গাইল থেকেই যানজটের মধ্যে পড়তে হয়। গাড়ীর চাকা একটু গড়ে তো ২০-৩০ মিনিট ধরে আবার গাড়ীর মধ্যেই বসে থাকতে হয়। এভাবেই ধীর গতিতে চলতে থাকে ঢাকা-রাজশাহী রুটের সব গাড়ীগুলোই।

2303161_kalerkantho-16-9-9
ঢাকার একটি বেরসকারী কোম্পানীতে চাকরি করা রাজশাহী নগরীর ভদ্রা আবাসিক এলাকার আবু বক্কর ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে জানান, ‘শুক্রবার সকাল ৮ টার দিকে প্রাইভেট কার নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ তিনি ঢাকার মোহম্মদপুর থেকে রওনা দেন। সেই গাড়ী গতকাল শনিবার ভোর ৫টার দিকে পৌঁছে রাজশাহীতে। বাকিটা সময় রাস্তার মধ্যেই কাটাতে হয় তাদের।
আবু বক্কর বলেন, ‘রাস্তায় যানজট থাকলেও পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। গভীর রাতেও মোটরসাইকেল নিয়ে গোটা রাস্তাজুড়েই পুলিশকে টহল দিতে দেখা গেছে। পুলিশ মাইকিং করে বা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে যানজট ছাড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিল সারাক্ষণ। আবার রাস্তায় গভীর রাতেও যেন কোনো সমস্যার মধ্যে যাত্রীরা না পড়েন বা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে না পড়েন-এর জন্যেও পুলিশ নানাভাবে যাত্রীদের সচেনতন করতে থাকে।’
শুক্রবার রাত আটটায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ন্যাশনাল ট্রাভেলসের এক যাত্রী লুৎফর রহমান বলেন, ‘রাস্তায় যানজট থাকলেও পুলিশের তৎপরতা নিয়ে যাত্রীরা খুশি।

2303161_kalerkantho-16-9-9

এরে ফলে রাস্তায় আটকে পড়া মানুষকে যানজটের বাইরে অন্য কোনো দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়নি।
এদিকে শনিবার ভোর থেকেই পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হতে থাকে। শনিবার ভোরে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যেসব যাত্রীবাহী যানবাহন ছেড়ে গেছে, সেগুলো ৭-৮ ঘন্টার মধ্যেই নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পেরেছে বলে দাবি করেন চালক ও যাত্রীরা।

তবে শনিবার রাত থেকে আবারো পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। রাতে রাস্তায় ব্যাপক যানজটের কারণে হাজার হাজার গাড়ী আটকা পড়ে।

সকাল আটটার দিকে এ্ প্রতিবেদন লেখার সময়ও রাজশাহী-ঢাকা রুটে হাজার হাজার গাড়ী আটকা পড়েছিল বলে কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া হানিফ পরিবহণের চালক আব্দুস সালাম ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে বলেন, ‘রাত ১১টার গাড়ী সকাল আটটাতে ঢাকায় ঢুকতে পারেনি। সাভারের কাছে গিয়ে আটকা পড়ে আছে। আরো কতক্ষণ সময় লাগবে বলা যাচ্ছে না।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY