নগরীতে সক্রিয় অজ্ঞান ও মলম পার্টি

0
267

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: ঈদ, পালা-পর্বণ অথবা যেকোনো উৎসব এলে বেড়ে যায় অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যদের তৎপরতা। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো ও কেনাকাটা করা মানুষকে নিঃস্ব করার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে তারা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহীতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির কয়েকটি চক্র। বর্তমানে নগরীতে মোট কয়টি চক্র কাজ করছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান দিতে না পারলেও চক্রগুলোর তৎপরতার কথা স্বীকার করে পুলিশ বলছে, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির হাত থেকে বাঁচতে মানুষের সচেতনার বিকল্প নেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে বলেন, ‘ঈদ চলে আসলেই সক্রিয় হয়ে উঠে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যরা। এবারের কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে তারা উৎপর হয়ে উঠেছে। তাদের ঠেকাতে পুলিশ খুবই সর্তক অবস্থানে রয়েছে।’
‘অজ্ঞান পার্টি এবং মলম পার্টির সদস্যদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষকে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হবে। মানুষের সচেতনার বিকল্প নেই। অন্যের দেওয়া যেকোনো খাবার খাওয়া যাবে না।’ বলেন ইফতেখায়ের আলম।
নগর পুলিশের এই মুখপাত্র বলেন, মানুষদের সচেতন করতে ইতোমধ্যে আমরা গরুর হাট ও মার্কেট কমিটির সাথে কথা বলেছি। অপরিচিত লোকজনের কাছ থেকে ক্রেতা সাধারণকে সাবধান করাতে গরুর হাট ও মার্কেট কমিটিকে বলা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগাম কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহী নগরীতে আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যরা। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করা ও ঘরমুখো মানুষকে নিঃস্ব করার জন্য ওঁৎ পেতে আছে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যরা। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সাধারণত চার থেকে পাঁচজন মিলে একটি টিম হয়ে কাজ করছে। শ্রমজীবী সাধারণ মানুষই অজ্ঞান পার্টির প্রধান টার্গেট। তবে এবারের কুরবাবির ঈদকে সামনে রেখে বিশেষ করে গরু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এখন তাদের প্রধান টার্গেট। নগরীর সিটি বাইবাস গরুর হাটসহ বিভিন্ন গরুর হাটে ইতোমধ্যে তাদের তৎপরতা শুরু হয়েছে।
গত বছর কুরবানির ঈদের আগে রাজশাহীর সিটি বাইপাস গরুর হাটে অন্তত ২৫ জন গরু ব্যবসায়ী অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ের অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে শ্রমজীবী মানুষের সরলতা এবং অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নগদ অর্থ, মোবাইলসহ সর্বস্ব হাতিয়ে নেয় চক্রটিগুলো। নগরীর গরুর হাট ছাড়াও নগরীর মার্কেটগুলোতে সক্রিয় আছে অজ্ঞান পার্টি এবং মলম পার্টির সদস্যরা।
রেলে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টি:

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদ মৌসুমে রেলপথের যাত্রীরা পকেটমার, মুঠোফোন চোর, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টি এ চার ধরনের অপরাধী চক্রের শিকার হন। ইতোমধ্যে সক্রিয় হচ্ছে অজ্ঞান পার্টি এবং মলম পার্টি। অজ্ঞান পার্টির প্রধান লক্ষ্য মেইল ও লোকাল ট্রেনের শ্রমজীবী মানুষ। উত্তরাঞ্চল  থেকে ঢাকাগামী ট্রেনগুলোতে অজ্ঞান পার্টিও দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। যাত্রীদের অচেতন করার উপকরণ হিসেবে তারা চা, পান, সিগারেট, চানাচুর, রুমাল বা কাপড় ব্যবহার করে। এ ছাড়া তারা চেতনানাশক ওষুধও ব্যবহার করে থাকে, যা নাকের সামনে ধরলেই যাত্রীরা অচেতন হয়ে পড়েন।
ট্রেনের হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বোচ্চ চারজন নিয়ে একেকটি চক্র গড়ে ওঠে। তাদের একজনের কাজ যাত্রী নির্বাচন। আরেকজন অচেতন করে লুট করার কাজটি করে। দু’জন থাকে ঘটনাস্থলের আশেপাশেই। ওই দুই সদস্যের দায়িত্ব হলো অচেতন করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেলে যাত্রী সেজে সহকর্মীকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি  থেকে উদ্ধার করা।
চিকিৎসকদের সূত্র থেকে জানা যায়, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা খাবারের সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ‘ডায়াজিপিন’ ট্যাবলেট কিংবা সিরাপ যাত্রীদের সেবন করিয়ে অচেতন করেন। এসব ওষুধ ডায়াবেটিস ও লিভারে সমস্যাহগ্রস্ত রোগীদের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমান ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে জানান, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের চেতনানাশক ওষুধ একসাথে মিশিয়ে ককটেল টাইপের কিছু একটা তৈরি করে। তারপর সেগুলো ব্যক্তিভেদে নানা ধরনের খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়ায়। একজন সুস্থ্য মানুষকে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে অচেতন করলে সেই মানুষটির কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু যাদের ফুঁসফুঁস, কিডনি ও লিভারের সমস্যা আছে, তাদের ফুঁসফুঁস, কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY