রিটা হতে পারতেন বাংলাদেশের

0
277

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: টানা ছয় বছরের মতো রিদমিক জিমন্যাস্টিকসের দুনিয়ায় ধরে রেখেছেন আধিপত্য। কুড়ি বছরের বাঙালি তরুণীর ইচ্ছে ছিল লাল-সবুজের পতাকাতেই বিশ্ব মাতানোর। জুনিয়র লেভেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছেন বাংলাদেশের হয়ে। কিন্তু নানা জটিলতায় বড় আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে নি। কাগজে-কলমে তাই তিনি এখন রাশিয়ার, তাঁর সাফল্যে ওড়ে রুশ পতাকাই। সেই মার্গারিটা মামুন রিদমিক জিমন্যাস্টিকসের একাধিক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জিতে কাল শুক্রবার নামছেন অলিম্পিকের আসরে।

ঘনিষ্ঠমহলে রিটা নামেই পরিচিত এই তরুণীর বাবা রাজশাহীর ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন পেশায় একজন প্রকৌশলী। ১৯৮৩ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) যাওয়ার পর সেখানেই বিয়ে করে স্থায়ী হন। রিটার মা আনা সাবেক রিদমিক জিমন্যাস্ট। রিটার জন্মও রাশিয়াতেই।

জিমন্যাস্টিকসের দুনিয়ায় মার্গারিটার পরিচিত নাম হয়ে ওঠার শুরুটা ২০১১ সালে। সে বছর মন্ট্রিল বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে বল ফাইনালে ২৭.০২৫ পয়েন্ট নিয়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক। একই আসরের অল-অ্যারাউন্ডে ১০৬.৯২৫ পয়েন্ট নিয়ে জেতেন ব্রোঞ্জ। একই বছর রাশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে হুপ আর বলে অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে ডাক পান জাতীয় দলে। এই টুর্নামেন্টে পরের দু’ বছরও অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন রিটাই।

এরপর তাঁকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রিদমিক জিমন্যাস্টিকসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত গ্রাঁ প্রিঁ-তে ২০১৩ সালে অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন হন। এই ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন টানা তিন বছর। সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে এক লাফে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসেন। এ পর্যন্ত খেলা দুটো বিশ্বকাপ থেকে জিতেছেন চারটি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্য। ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে অল-অ্যারাউন্ডে গড়েছেন নতুন বিশ্বরেকর্ডও।

২০১৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রিটার পারফরম্যান্স

রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত রিটার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরই সতীর্থ রাশিয়ান ইয়ানা কুদরাভসেভা। অল-অ্যারাউন্ডে তিনবারের এই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবারের অলিম্পিকেও রিটার স্বর্ণজয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। তবে অলিম্পিকের ঠিক আগের পরিসংখ্যান আশাবাদী করছে রিটাকেই। অল-অ্যারাউন্ড বাদে বাকি ইভেন্টগুলোয় গত দু’ বিশ্বকাপেই কিদরাভসেভাকে ছাপিয়ে গেছেন রিটা।

রাশিয়ার রিদমিক জিমন্যাস্ট দলের প্রধান কোচ রিটার নাম দিয়েছেন ‘দ্য বেঙ্গল টাইগার’। ‘বাংলার বাঘিনী’ ডাকনামটা আছে আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে থাকা রিটার পরিচিতিতেও। রাশিয়ার গণমাধ্যমগুলোতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই নাম।

লাল-সবুজের অলিম্পিক বলতে যখন আজও বোঝায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতাকা বহন আর গুটিকয়েক ইভেন্টের বাছাইপর্বে নামমাত্র অংশগ্রহণ, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এক তরুণীর জিমন্যাস্টিকসের মতো ডিসিপ্লিনে বিশ্ব মাতানোর খবর কিছুটা হলেও নজর তো কাড়েই।

প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে অংশ নিতে যাওয়া রিটার অল-অ্যারাউন্ড একক ইভেন্টটির বাছাই আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY