পুলিশের ঈদ বাণিজ্য

0
264

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়াকে আটকের পর ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। বোয়ালিয়া থানার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এই নিয়ে মহানগর পুলিশে ব্যাপক তোলপাড়া শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় রাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ শুরু করেছেন।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৩ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব রেলওয়ে কলোনির সদস্যরা মালোপাড়া এলাকার আল-রহমান হার্ডওয়ার মাকের্টের তৃতীয় তলা থেকে তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সেক্রেটারি সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া, আরিফুল ইসলাম, আব্দুল কাদের বাপ্পী, মিনহাজুল ইসলাম, আবু ছায়েম, কবির হোসেন, আরিফুর রহমান ও মতিউর রহমানকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি, ১৩টি ককটেল, দুটি হাঁসুয়া ও একটি লোহার রড় উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় র‌্যাবের ডিএডি আলতাফ হোসেন (জেসিও-৭১৯০) বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর-৭৯। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবির নেতা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়াকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। মামলায় ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। এই মামলায় বিচারক গোলাম আহমেদ খলিলুর রহমান ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৯ (এফ) ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। সেই দিন থেকে শিবির নেতা ইয়াহিয়া কারাভোগ করছিলেন।
এদিকে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর গত ১৬ জুন রাজশাহী কেন্দ্রেীয় কারাগার থেকে শিবিরের এই নেতা জামিনে মুক্তি পান। ওই দিনই কারাগারের সামনে থেকে বোয়ালিয়া মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম সাকলায়েনের নেতৃত্বে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে অতি গোপনে থানায় নেয়া হয়। এরপর গভীর রাতে ইয়াহিয়াকে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে দেন-দরবার হয়। শেষ পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ভোর রাতের দিকে সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়াকে ছেড়ে দেয়া হয়। এই নিয়ে পুলিশের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কিন্ত থানার শীর্ষ কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপে ছেড়ে দেয়া হয় বলে পুলিশের ওই সুত্রটি নিশ্চিত করে। সুত্র নিশ্চিত করেছেন, বোয়ালিয়া থানা থেকে ছাড়া পেয়ে শিবির নেতা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া আত্মগোপনে চলে গেছেন। তার বাড়ী পাবনা ঈশ্বরদীতে।
এদিকে বোয়ালিয়া মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম সাকলায়েন ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে শিবির নেতা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়াকে আটকের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, এই ধরণের তথ্য তার কাছে নেই।

এদিকে মহানগর পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম বিপিএম ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। এ বিষয়ে তার কাছেও কোন তথ্য নেই। যদি এই ধরণের কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY