এমপিও: বিকল্প খুঁজছেন নাহিদ

0
311

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি অনুযায়ী সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওর আওতায় আনতে ‘বিকল্প’ খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শনিবার সংসদে বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, “আমাদের সকল এমপিদের একটি দাবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে হবে। সকল এমপির দাবির প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আমি নিজেও একজন সংসদ সদস্য। আমরা বুঝি, এটা একটা বড় সমস্যা। কিন্তু আমাদের সমস্যা হলেও এর সমাধান বের করতে হবে। নানা ধরনের বিকল্প প্রস্তাব আমরা তৈরি করছি এবং কোনো না কোনো পথ আমরা বের করব; এতে সন্দেহ নাই।”

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের পুরোটাই সরকারি কোষাগার থেকে পান। সেই সঙ্গে অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর মত মহার্ঘ্যভাতা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসবভাতা পান তারা।

বর্তমানে দেশে ২৬ হাজার ৭৬টি এমপিওভুক্ত এবং পাঁচ হাজার ২৪২টি এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়।

বাকি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এমপিওর আওতায় আনার দাবি দীর্ঘদিনের। এ ক্ষেত্রে টাকার বরাদ্দ না থাকাকেই মূল সমস্যা বলে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী।

আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও সম্প্রতি সরাসরি বলেছেন, এ মুহূর্তে এ খাতে আর টাকা দেওয়া হবে না।

গত ৭ জুন সংসদে সম্পূরক বাজেট পাসের সময় ‘ঢালাওভাবে’ এমপিওভুক্তির তদবির করায় সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক তৃতীয়াংশ ‘খামোখা’ গড়ে উঠেছে।

তারপরও শনিবার বিকল্প খোঁজার আশার কথা শুনিয়ে নাহিদ সংসদকে বলেন, “অর্থমন্ত্রী মত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সুতরাং এই পথে একটি সমাধান বের করতে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যচ্ছি। এ ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।”

বাজেটের ওপর আলোচনায় নাহিদ বলেন, “নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করতে বিশ্বমানের শিক্ষা চাই। সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা চাই ভালো মানুষ, সৎ, নিষ্ঠাবান, দেশপ্রেমিক মানুষ তৈরি করতে। সেদিকেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।”

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা রিজার্ভ রাখলাম ফেডারেল ব্যাংকে। এমন প্রযুক্তি শিখালাম, সেই টাকা চুরি করে নিয়ে গেল। তাহলে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে হবে না। নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে।”

নৈতিকতার শিক্ষার কথা বলতে গিয়ে সাইফুর’স কোচিং সেন্টারেরও সমালোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী।

“আমাদের এক শিক্ষক ছিল, সাইফুর। সে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে কোচিং ব্যবসা শুরু করলে। সে বলে, ভালো ইংরেজি শিখতে না পারলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবে না। এমনকি হ্যাকারও হতে পারবে না। একজন শিক্ষক বলছে, চোর হতে হবে। এই হচ্ছে অবস্থা।”

হ্যাকিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ডামাডোলের মধ্যে দক্ষ ‘হ্যাকার তৈরির বিজ্ঞাপন’ দিয়ে সমালোচনায় পড়ে সাইফুর’স কোচিং সেন্টার।

ওই বিজ্ঞাপনের শিরোনামে বলা হয়, “English-এর ভুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৬০ কোটি টাকা হ্যাকারদের হাতছাড়া!”

‘চোর বানানোর বিজ্ঞাপন’ দিয়ে সাইফুরস মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে দাবি করে এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ কোচিং সেন্টারটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সূত্র: বিডি নিউজ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY