‘পলাতক’ রানা সংসদে যাচ্ছেন, কেউ ‘দেখছে না’

0
248

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: খুনের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা সংসদে হাজিরা দিয়ে গেলেও দায়িত্বশীল কেউ তাকে দেখার কথা স্বীকার করেননি।

সোমবার অধিবেশন কক্ষের ৪ নম্বর লবিতে রাখা হাজিরা বইয়ে সই করে চলমান অধিবেশনে যোগ না দিয়েই কয়েক মিনিটের মধ্যে লবি ছেড়ে বেরিয়ে যান টাঙ্গাইলের এই সংসদ সদস্য।

লবিতে কর্মরত সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মচারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যামামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি রানাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করে আসছে পুলিশ।

টাঙ্গাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য রানাকে গ্রেপ্তারে গত ৬ এপ্রিল টাঙ্গাইলের আদালত পরোয়ানা জারি করে। তিনি ধরা না পড়ার পর ১৬ মে তার মালামাল বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পালিয়ে থাকা রানা সর্বশেষ গত বছরের ৫ জুলাই সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে অনুপস্থিতির কারণে সংসদ সদস্যপদ হারানোর ঝুঁকি তার রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সাংসদ টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।

সংসদের কার্যপ্রণালীবিধি অনুযায়ী, সংসদ এলাকায় কোনো সাংসদকে গ্রেপ্তার করতে হলে স্পিকারের অনুমতি নিতে হবে।

সংসদের প্রধান ফটকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও লবির গার্ডরা জানান, রানা সোমবার বেলা ১১টার পর নিজস্ব গাড়ি নিয়ে সংসদে ঢোকেন।

তবে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় সংসদের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস) কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম ও ডেপুটি সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস (অপারেশন) সেলিম খান উভয় বলেছেন, তারা কিছু জানেন না।

সোমবার সংসদ অধিবেশনে কিছু সময় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া সভাপতিত্বে আসেন।

রানার বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াও সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, “আমানুর রহমান সংসদে এসে হাজিরা দেওয়ার বিষয়টি আজই (মঙ্গলবার) শুনলাম। তবে তিনি অধিবেশনে যোগ দেননি। দিলে আমার চোখে পড়ত।”

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুককে। হত্যার তিন দিন পর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

পরে নাহার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ফারুক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। সেজন্যই তাকে হত্যা করা হয়। টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাই রানা, মুক্তি, কাঁকন ও বাপ্পা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

রানাদের চাচা শামসুর রহমান খান শাহজাহান আওয়ামী লীগের নেতা ও সংসদ সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ভাতিজারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন।

ফারুক হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার খান পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আনিসুল ইসলাম রাজা এবং মোহাম্মদ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রানাদের চার ভাইকে জড়িয়ে বক্তব্য দেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের ওসি গোলাম মাহফীজুর রহমান অভিযোগপত্র দেন, যাতে রানাসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়।

রানা ও তার ভাই ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি এই মামলায় আগাম জামিন নিতে উচ্চ আদালতেও গিয়েছিলেন।

তখন তাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছিল হাই কোর্ট। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে তাতে স্থগিতাদেশ আসে।

আসাসিদের মধ্যে রানা ও মুক্তির দুই ভাই টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাঁকন এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সানিয়াত খান বাপ্পা ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

রানা ও মুক্তি দেশে থাকলেও তাদের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য, তাদের ধরতে অভিযান চলছে, কিন্তু তাদের এখনও পাওয়া যায়নি।

সূত্র: বিডিনিউজ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY