বাংলাদেশি তরুণকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে চার ভারতীয়

0
238

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: গত ২১ মে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ২৫ বছরের তরুণ কামরুজ্জামান। দুর্ঘটনায় তার বাম হাত ও পা ভেঙ্গে গেছে এবং কোমরের নিচে সংযুক্ত পায়ের হাড়ের জোড়াও ভেঙ্গে গেছে।

রাজধানীর অ্যাপোলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কামরুজ্জামানকে বাঁচাতে চার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন তবে সাধারণ কোনো গ্রুপের রক্ত নয়। তার রক্তের গ্রুপের কোনো লোকের খোঁজ মেলেনি বাংলাদেশে।

শেষ পর্যন্ত দুর্লভ ‘বোম্বে গ্রুপের’ রক্ত দান করে বাংলাদেশি এই তরুণকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন ভারতের মুম্বাইয়ের চার ব্যক্তি।

কামরুজ্জামানের রক্তের গ্রুপে নাম হচ্ছে ‘বোম্বে গ্রুপ’। পৃথিবী জুড়ে এটি সবচেয়ে দুর্লভ রক্তের গ্রুপ। বোম্বে শহরে সর্বপ্রথম ১৯৫২ সালে এই রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার হয় । এটি আবিষ্কার করেন ডা. ভেডে। বোম্বে শহরের নাম অনুসারেই এই রক্তের নাম ‘বোম্বে ব্লাড গ্রুপ’ দেওয়া হয়। সারা বিশ্বে প্রতি দশ লাখ গড়ে চারজনের দেহে এই গ্রুপের রক্ত রয়েছে। এদের মধ্যে ভারতে রয়েছে ৪০০ জনের এ গ্রুপের রক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে ।

কামরুজ্জামানের অপারেশনের আগে রক্ত পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানতে পারেন তার দেহে দুর্লভ বোম্বের গ্রুপের রক্ত। বাংলাদেশে বিভিন্ন রক্তদানকারী প্রতিষ্ঠানে যোগোযোগ করে কামরুজ্জামানের স্বজনরা এই রক্তের গ্রুপের কোনো মানুষের সন্ধান পাননি। তারা অনলাইনে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

শেষ পর্যন্ত তারা ভারতের মুম্বাইয়ে বেসরকারি সংস্থা থিংক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা বিনয় শেঠির খোঁজ পান। তার মাধ্যমেই মুম্বাইয়ের চার তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে চার ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এরা হলেন স্বপ্না সাওয়ান্ত, কৃষ্ণানন্দ কোরি, মেহুল ভেলিকার ও প্রভীন সিন্ধে।

কামরুজ্জামানের সহকর্মী এসকে তুহিনুর আলম ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘আমরা ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত এবং অসংখ্য হাসপাতাল ও ব্লাডব্যাংকে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু অনেকে এই রক্তের গ্রুপের নামই জানে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে পরিবারের সদস্যদের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে তার (কামরুজ্জামানের) বোনের দেহে এই গ্রুপের রক্ত রয়েছে বলে জানতে পারে। কিন্তু রক্তদানের জন্য সে উপযুক্ত নয়। আমাদের অরিনোবা প্লাস্টিক ইন্ড্রাস্ট্রির মালিক যখন জানতে পারলেন, পরিবারে কামরুজ্জামানই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা নির্ভর করে তার আয়ের ওপর, তখন তিনি আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ করেন। আর এভাবে ভারত কেবল একটি জীবন নয়, বরং পুরো একটি পরিবারকে রক্ষা করছে।’

আজ শনিবার বিমানে করে চার ব্যাগ রক্ত ঢাকায় চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। থিংক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা বিনয় শেঠি জানান, ভারত থেকে রক্ত বিদেশে পাঠাতে হলে অনেকগুলো প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের একাধিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতিরও প্রয়োজন হয়।

সূত্র: রাইজিংবিডি

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY