দেশসেবায় চীনের প্রয়োজন যুবকদের শুক্রাণু

0
239

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: এক সময় দেশটিতে একের অধিক সন্তান নিষিদ্ধ ছিল। এ জন্য ছিল কঠোর আইন। এখন এই নীতি থেকে সরে এসেছে দেশটি। গত বছরে করা নতুন আইন অনুযায়ী বর্তমানে চীনে বয়স্ক দম্পতিরা দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন। কিন্তু এই সন্তান জন্ম দেয়া নিয়েই তৈরি হয়েছে বিপত্তি।

বয়স্কদের সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষমতা এমনিতেই কম। যে কারণে তাদের স্পার্ম ব্যাংকগুলোর দ্বারস্থ হতে হয়। অথচ সেখানে বর্তমানে মজুদ নেই পর্যাপ্ত শুক্রাণু। ফলে বাধ্য হয়ে শুক্রাণু চেয়ে বিজ্ঞাপন দিতে হচ্ছে তাদের। বিষয়টিকে তারা দেশসেবার অংশ বলে মনে করছে। এ জন্য গণসচেতনতা বাড়াতে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশের যুবসমাজকে আকৃষ্ট করতে চাইছে চীন সরকার।

চীনে আগের চেয়ে শুক্রাণু দাতার চাহিদা বেড়েছে কিন্তু কমেছে জোগান। ফলে ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশের যুবকদের অনুপ্রাণিত করছে। এ জন্য বিজ্ঞাপনে এও বলে দেয়া হচ্ছে যে, শুক্রাণুদাতারা এর বিনিময়ে কী কী পাবেন। এই তালিকায় রয়েছে ‘‌রোজ গোল্ড’ মডেলের আইফোন এবং এক হাজার মার্কিন ডলার। এ সবই উপহারস্বরূপ দেয়া হবে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক ‘ডেইলি মেইল’ এই খবর প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়েছে, কেন দেশটিতে শুক্রাণুর চাহিদা এত তীব্র আকার ধারণ করেছে?‌ কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, স্পার্ম সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্পার্ম দাতাকে পেতে তারা যে কোনো কিছু করতে রাজি আছেন।

সমীক্ষা বলছে, চীনে শুক্রাণুদাতার সংখ্যা হঠাৎ অর্ধেক কমে গছে। ফলে দেশটির‌ স্পার্ম ব্যাংকগুলো একেবারেই শূন্য। এদিকে এ পরিস্থিতিতে ফোন, অর্থের বদলে শুক্রাণু দেয়ার এই প্রচারের পাশাপাশি জনপ্রিয়তা বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে নানা জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণদের লক্ষ্য করে কম্পিউটার গেমের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে ক্ষুদে বার্তা।

সরকারি প্রচারে বলা হচ্ছে, রক্তদানের মতোই শুক্রাণুদানও এক ধরনের সমাজসেবা। দেশের জনসম্পদ বাড়াতে বিজ্ঞাপনে এভাবেই সবাইকে বিশেষ করে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ জন্য দেশটির ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের টার্গেট করা হচ্ছে এ কাজের জন্য।  সম্প্রতি এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, শুক্রাণু দান করতে আগ্রহী অন্তত ৫০ ভাগ মানুষের তালিকা তৈরি করছে কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এতদিন দেশটি এক সন্তান নীতি আকড়ে ধরে ছিল কেন?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY