রাজশাহীতে ১৩ জেএমবি সদস্যসহ ১৫০ জন গ্রেফতার : ককটেল উদ্ধার

0
242

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: রাজশাহীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৩ জেএমবি সদস্যসহ ১৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে জেলার ৯ থানায় জেলা পুলিশ গ্রেফতার করেছে ১০১ জনকে। আর রাজশাহী মহানগরীর ৪ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৪৯ জনকে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত চলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও রাজপাড়া জোনের সহকারি কমিশনার ইফতে খায়ের আলম ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে জানান, রাজশাহী মহানগরীতে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ৪৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে একজন শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার রয়েছে।

এছাড়া একজন অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন সাঁজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীও আছেন। বাকিরা বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী এবং মাদকসেবী। শনিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) নিশারুল আরিফ ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে জানিয়েছেন, জেলার ৯ থানায় মোট ১০১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জন জেএমবি সদস্য রয়েছে।

জেলার গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে জানান, তার থানায় মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা সবাই বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী ও মাদকসেবী।

পবা থানার ওসি শরিফুল ইসলাম ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে জানান, তার থানায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন জেএমবি সদস্য রয়েছে। তার নাম মোজাম্মেল হক (৪৫)। তিনি উপজেলার পুঠিয়াপাড়া গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে।

চারঘাট থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে জানান, তার থানায় শুধু একজন জেএমবিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম আহবাব বিন আবদুল্লাহ ওরফে লালন (৩২)। তিনি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত আবদুল শেখের ছেলে। ওসির দাবি, এই জেএমবি সদস্যর বাড়ি থেকে পাঁচটি ককটেল ও কিছু জেহাদী বইপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে বাঘা থানার ওসি আলী মাহমুদ জানান, তার থানায় সর্বোচ্চ ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন জেএমবি সদস্য রয়েছে। তবে এই জেএমবিদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি ওসি।

দুর্গাপুর থানার ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, এ উপজেলায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা সবাই ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী।

বাগমারা থানার ওসি মতিয়ার রহমান জানান, তার থানায় ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনই জেএমবি সদস্য। তবে তিনি গ্রেফতার জেএমবি সদস্যদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

তানোর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, তানোরে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে কেউ জেএমবি সদস্য কিংবা জামায়াত-শিবিরের কর্মী নন।

পুঠিয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান ‘মিরর বাংলা নিউজ’ কে জানান, এখানে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন জামায়াত নেতা ও ২ জন জেএমবি সদস্য। জেএমবি সদস্যরা হলেন, উপজেলার জাইগিরপাড়া গ্রামের আইনাল হকের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৬) এবং জামিরা গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মন্টু শেখ (৩৮)।

মোহনপুর থানার ওসি আবদুল হামিদ জানান, এই উপজেলায় মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা সবাই বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী ও মাদকসেবী।

জেলা পুলিশের হাতে গ্রেফতার এই ১০১ জনকেও শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY