ওরা এতিম, তাই ভালো ইফতার পায়না!

0
211

মিরর বাংলা নিউজ  ডেস্ক: ওরা এতিম, তাই ভালো ইফতার জোটে না। কোনো দিন শুধু পানি মুখে দিয়ে ইফতার করে। নামাজ শেষ একটু সবজি দিয়ে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোররাতের সেহরিতেও একই অবস্থা। এইভাবেই চলছে। চলছে রমজান মাস। অনেক সুহৃদয় ব্যক্তি সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত আসেনি কেউ এগিয়ে।

তবে সহযোগিতা পেলে এই রমজান মাসে ভালো কিছু দিয়ে ইফতার করতে পারতো এতিমরা। এতিমরা রোজা রাখছে। রমজান মাসে শিশুদের ভালো খাবার জটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিচালক পড়েছেন বেকায়দায়। তাই তিনি বৃত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

রাজশাহী শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের সরেরহাট গ্রাম। এ গ্রামে গড়ে উঠেছে ছোট্ট একটি এতিম খানা। নাম দেয়া হয়েছে সরেরহাট কল্যাণী শিশু সদন। বর্তমানে এতিমের সংখ্যা ১৬৯ জন। এর মধ্যে ছেলে ১১৮ জন ও মেয়ে ৫১ জন।

এসব এতিম সন্তানরা কেউই তার নিজের নয়। ৩১ বছরে পৈতৃক ১৭ বিঘা জমি বিক্রয় করে এতিমদের রক্ষা করে চলেছেন। এতে দেশের মানুষের ভালবাসা ছাড়া কি-ই-বা পেয়েছেন। পেয়েছেন কেবল একটি খেতাব “সাদা মনের মানুষ” তাতে তো আর এতিমদের পেট ভরেনা। কিন্তু চলমান রমজান মাসে বেকায়দার রয়েছেন এতিমদের নিয়ে। তিনি দেশবাসির কাছে আবেদন করেন এতিমদের জন্য।

জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার প্রথমে স্ত্রী মেহেরুন্নেসার মোহরানা বাবদ অর্থে ১২ শতাংশ জমি কিনে চালু করেন এতিম খানা। আয় বলতে মেহেরুন্নেসার সেলায় ফোঁড়া ও শমেস ডাক্তারের চিকিৎসা থেকে আসা কিছু অর্থ।

এতিমদের রক্ষার্থে আশ্রয়হীনদের ব্যবস্থা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়ির ভিটা বিক্রি করে নিজেই পরিবার নিয়ে হয়ে পড়েন গৃহহীন। তিনি পল্লী চিকিৎসক পরিবার নিয়ে পড়েন বিপাকে। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে উঠে আসেন এতিমখানায়। স্ত্রী মেহেরুন্নেসা শিশুদের দেখা শুনা ও তাদের জন্য রান্না করেন তিন সন্ধ্যা। এখন মেহেরুন্নেসা সেখানকার একজন সেবিকা। বিনিময়ে দুটো খেতে পান মাত্র।

বর্তমানে ১৬৯ জন এতিমসহ তারা স্বামী-স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সবাই এক সাথে দিন রাত কাটান।
নিজের স্ত্রীর, ছেলে-মেয়ের, সরকাররি, বেসরকারি ও ব্যাক্তিগতভাবে যে, সহযোগিতা পায়, তা দিয়ে ছয় মাস চলে। আর ছয় মাস বিভিন্ন দোকানে বাকি রাখতে হয়। বছর শেষে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণের মধ্যে থাকতে হয়। সরকার ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা পেলে অন্তত এই ঋণ থেকে মুক্তি পেতেন তিনি।

বর্তমানে ৫২ শতাংশ জমির উপর এতিম খানাটি উপজেলা সদর থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার পূর্বে সরেরহাট গ্রামে অবস্থিত।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY