রহস্যজনক গুলিতে রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাসের সাবেক প্রশাসক টুকু নিহত

0
332

রহস্যজনকভাবে গুলিতে নিহত হয়েছেন রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাসের সাবেক প্রশাসক জিয়াউল হক টুকু। আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নগর ভবনের সমানে তার ব্যবসায়িক চেম্বারে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এরপর রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।  রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত টুকু একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ছিলেন। তার বাসা নগরীর শষ্ঠীতলায়।

টুকুর চেম্বারের আশপাশের দোকানের কয়েকজন কর্মচারী জানান, রোববার বিকেলে ‘সিটি চেম্বার’ নামের নিজ চেম্বারে ছিলেন জিয়াউল হক টুকু। এ সময় চার চেম্বারে ছিলেন আরো তিন থেকে চারজন ব্যবসায়ী। রোববার বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে চেম্বারের ভেতর থেকে হঠাৎ একটি গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এরপর চেম্বারের ভেতরে থাকায় ব্যক্তিরা টুকুকে রক্তাক্ত অবস্থায় বের করে একটি মাক্রোবাসে করে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে টুকুর মৃত্যু হয়।

বিকেল ছয়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চেম্বারের বাইরে পুলিশের কয়েকটি ভ্যান দাঁড়ানো। চেম্বারের ভেতরে সিআইডি ও পিবিআই এর কর্মকর্তারা আলামত সংগ্রহ করছেন।

পিবিআই এর একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। পিস্তলের ম্যাগাজিনে পাঁচটি গুলি রয়েছে। যে গুলিতে টুকু নিহত হয়েছে সে গুলিও সেখানে পড়ে আছে, ওই গুলির পাশে আছে  গুলির খোসা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, টুকুকে উদ্ধারকারী ব্যবসায়ীরা উদ্ধারের সময় আশপাশের লোকজনকে বলেছেন,  নিজস্ব চেম্বারে বসে পিস্তল পরিস্কার করছিলেন টুকু। এ সময় অসাবধানতা বশত তার নিজের পিস্তল থেকে গুলি বেরিয়ে যায়। এতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাকে দ্রুত রাজশাহী  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর পর তাকে হাসপাতোলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নেওয়া হলে কিছুক্ষণ পরেই টুকু মারা যান।

টুকুর ভাই আমিনুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, টুকু নিজের গুলিতে আহত হয়েছে বলে তারা খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান। হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ দেখতে পান তিনি।

হাসপাতালের চিকৎসকরা জানান, টুকুর ডান পাশের বগলের নিচে গুলি লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। এতে তিনি মারা যান।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার এসআই মহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি নিজের গুলিতে নিহত হয়েছেন নাকি অন্য কেউ তাকে হত্যা করেছে, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত জীবনে টুকু দুই ছেলের জনক ছিলেন। তার স্ত্রী নাম লতা বেগম। তিনি স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে রওনক এবার চলতি এএইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আর ছোট ছেলে রনু রাজশাহী ক্যান্টমেন্ট বোর্ড স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) একেএম নাহিদুল ইসলাম জানান, রোববার বিকেলে আওয়ামীলীগ নেতা জিয়াউল হক টুকু তার ব্যবহৃত লাইসেন্সকৃত পিস্তলটি চেম্বারে বসে পরিস্কার করছিলেন। এসময় অসাবধানতা বশত: তার পিস্তল থেকে একটি গুলি বের হয়ে বুকের বাম দিকে বিদ্ধ হয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে এ  ব্যাপারে বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এদিকে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। নিজের পিস্তল পরিস্কার করতে গিয়ে তিনি বুকে গুলিবিদ্ধ হন। ওই সময় চেম্বারের পাশে ঘরে থাকা অন্য বন্ধুরা গুলির আওয়াজ পেয়ে বের হন। পরে তারা তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY