বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে অসংখ্য মানুষ

0
444
সামাজিক অবক্ষয়কে পেছনে ফেলে নতুন ও মঙ্গল কামনায় নতুনন বছরকে বরণ করে নিয়েছে বাঙালি। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয় হাজারো বাঙালি।
‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে’-এবার এই প্রতিপাদ্যে  মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শাহবাগ দিয়ে রুপসী বাংলার মোড় ঘুরে টিএসসি হয়ে ফের চারুকলার সামনে এসে শেষ হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এবারের শোভাযাত্রায় মা ও সন্তানের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাজ করার একটা আহ্বান আছে। আজকের শিশুরা আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবে। নতুন বছরে তাদের জন্য সুন্দর ও শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
শোভাযাত্রায় মা-শিশুর অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়। এছাড়া হাতি, মাছ, পাখি, ষাড় নানা ধরনের কাঠামো ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এছাড়াও নানা ধরনের মুখোশ, বাঁশি ও বাদ্যযন্ত্র ছিল।

শোভাযাত্রায় নতুন বছরের মঙ্গলকামনায় অংশ নিয়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, নেচে-গেয়ে তাতে অংশ নিয়েছেন সব বয়সের সব শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ।
এর আগে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, প্রতিবারই আমরা শুভ কামনা নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করি। এ বছর আমাদের মূল ভাবনার জায়গাটা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। যার ফলে এখন মায়ের হাতে সন্তান, সন্তানের হাতে মা খুন হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধর্ম ব্যবসায়ীদের আস্ফাালনসহ নানা অবক্ষয় চলছে। আমরা এসব থেকে মুক্তি চাই, আলোর দিকে যেতে চাই।

পহেলা বৈশাখ উৎযাপনে সকাল থেকেই নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। নগরীর পদ্মা গার্ডেন, মুক্তমঞ্চ, লালনমঞ্চ, রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান, শিশু পার্কে বিনোদন প্রেমীদের ভীড় দেখা  যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে মানুষের ঢল। বিকেলে এসব কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি  ছিল চোখে পড়ার মতো।

নগরীর পদ্মাপাড়ে সকাল থেকে নানা সংগঠনের ব্যানারে একে একে আসতে থাকেন বিনোদন প্রেমীরা। পদ্মা পাড়ে পদ্মার রুপালী ইলিশ আর পান্তার আয়োজন নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে ভীড় জমাতে থাকে সংগঠনের সদস্যরা। পান্তা ইলিশ আয়োজন শেষে নাচে গানের মাধ্যমে নিজেদের আনন্দঘন সময়টি পার করতে থাকে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY