রাত জেগে জমি পাহারা দিচ্ছে গ্রামবাসী

0
161

মিররবাংলা নিউজ  ডেস্ক:

শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলের সিংড়ার দুর্গম পল্লী পাউটা-বাঁশবাড়িয়া গ্রামের নিহীর এক ভুমিহীন কৃষকের লিজ নেওয়া ৭ বিঘা জমির মিনিকেট ধান আগাছা নাশক ছিটিয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। এতে রফিকুল ইসলাম নামে ওই কৃষকের দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা হয়ে হয়েছে।

এদিকে রাতের অন্ধকারে এক সঙ্গে রফিকের ৭ বিঘা জমি অপর তিন কৃষকের জমিতেও আগাছা নাশক দেওয়ায় গ্রাম জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীরা এখন রাত জেগে জমি পাহারা দিচ্ছে। এবিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক রফিকুল ইসলাম সিংড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক রফিকুল ইসলাম ”মিরর বাংলা নিউজ” কে জানান, সে উপজেলার দুর্গম পল্লীর পূর্ব বাঁশবাড়িয়া মাঠে প্রায় ৭ বছর ধরে ৮বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওই জমির নতুন ধান ঘরে তুলার কথা থাকলেও সম্প্রতি কে বা কাহারা রাতের আধাঁরে আগাছা নাশক বিষ ছিটিয়ে তার ৭ বিঘা জমির ধান পুড়িয়ে দিয়েছে।

খবর পেয়ে কৃষি বিভাগের ৩ জন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জমি পরিদর্শন করে জানান,আগাছা নাশক ছিটিয়ে দেওয়ার কারনে গাছসহ ধানগুলো বিনষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঘরে তার খাবারের যোগান নেই। এরপর দাদন ব্যবসায়ীর কাছে থেকে নেওয়া ৬০ হাজার টাকা সুদে আসলে ৯০ হাজার টাকা শোধ করতে হবে। কিন্তু ধান ঘরে তুলতে না পারায় তারা পথে বসেছেন। তার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন পথ নেই।
রফিকের স্ত্রী আলেয়া খাতুন ”মিরর বাংলা নিউজ” কে জানান, তার স্বামী অন্য জায়গায় দিনমজুরী করে। তাই বাড়িতে থাকেন না। দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি কৃষিকাজ করেন। এছাড়া তারা অন্যের জমিতেও কাজ করে। শত্রুতা করে কেউ এসব করেছে। গত বছর তার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কেন এমন শত্রুতা তা তিনি জানেননা। এখন দাদন ব্যবসায়ীর ঋন শোক করতে তাদের ভিটা মাটি বিক্রি করতে হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসী মোয়াজ্জেম হোসেন, মকলেছ, আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাদের বিলের জমির ধান প্রায় রাতের আধাঁরে বিষ ছিটিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ধানের সাথে এ কেমন শত্রুতা? তাই গ্রামবাসী এখন রাত জেগে জমির ধান পাহাড়া দিচ্ছেন। তারা এবিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে পূর্ব বিরোধের জের ধরে ওই মাঠের ধান রাতের আধাঁরে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন ”মিরর বাংলা নিউজ” কে জানান, আগাছা নাশক ঔষধ ছিটানের ফলে এই ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্থ জমি পরির্দশন করে ওই কৃষককে বেশী করে পানি স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি কৃষি বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY