আজ ভয়াল ২৫ মার্চ

0
332

আজ শুক্রবার ভয়াল ২৫ মার্চ। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর নিরীহ বাঙালির ওপর বর্বর গণহত্যার ভয়াবহ স্মৃতিজড়িত ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে এক নৃশংসতম গণহত্যার নজির স্থাপন করেছিল হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। গণহত্যার নীলনকশা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পাকিস্তানি দানবরা মেতে ওঠে নির্বিচারে স্বাধীনতাকামী বাঙালি নিধনযজ্ঞে। রাজধানী ঢাকায় দিনের কর্মক্লান্ত প্রাণগুলো যখন ঘুমিয়েছিলেন, তখন তাদের হত্যার নিধনযজ্ঞে নামে জলপাই রঙের ট্যাংক আর সাঁজোয়া বহর। হিংস্র শ্বাপদের মতো ধেয়ে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ, ইপিআর ব্যারাকের দিকে। শুরু হয় কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’। পঁচিশে মার্চের মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া সেই নিধনযজ্ঞ চলে টানা ৯ মাস। আর এতে প্রাণ হারাতে হয় প্রায় ৩০ লাখ নিরীহ বাঙ্গালিকে।

কালরাতের শহীদদের স্মরণ ও গণহত্যার বিচার দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কালরাত’ স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিনভর থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের বেদিতে মোমবাতি প্রজ্বলন করবে জগন্নাথ হল পরিবার। এর আগে রাত ১১টায় হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মশাল মিছিল হবে। অন্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সন্ধ্যা সাতটায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশ-বিদেশের শহীদ মিনারে আলোর মিছিল।

এছাড়া রাত ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সেক্টর কমান্ডার ফোরাম ‘শিখা চিরন্তন’ সংলগ্ন বেদীতে মোমবাতি প্রজ্বলন করবে। দেশাত্মবোধক নাচ, গান ও কবিতা আবৃতির ঘণ্টাব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি রাত ১১টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত চলে রাত ১২টায় এক মিনিটের নীরবতা ও নিষ্প্রদীপ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এরপর অন্ধকারের তমসা ভেদ করে স্বাধীনতার আলোর পথে যাত্রা। এ পর্যায়ে নতুন প্রজন্মের হাতে মশাল ও জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করবেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা। এবারের অনুষ্ঠানে সর্বপ্রথম কয়েকজন নারী মুক্তিযোদ্ধা নতুন প্রজন্মের হাতে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করবেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY