সাংবাদিক প্রবেশে বাধা বাংলাদেশ ব্যাংকে

0
243

খবর সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশে বাধার মুখে পড়েছেন সাংবাদিকরা। বুধবার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব বিভাগে সাংবাদিকদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থচুরি ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকটি বিভাগে সাংবাদিকদের যাতায়াতে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।বুধবার থেকে সব বিভাগেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। নতুন গভর্নর ফজলে কবিরের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন,সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অচিরেই একটি মিডিয়া সেন্টা খোলা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, সাংবাদিকদের কিছু জানার থাকলে বা কোনো বক্তব্য প্রয়োজন হলে আগে থেকে আমাদের অবহিত করতে হবে। আমরা পরে সে বিষয়ে বক্তব্য দেব। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরো বলেন, অচিরেই বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি মিডিয়া সেন্টার খোলা হবে। আমরা সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলব। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে জানান তিনি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। ঘটনা জানার পরও বিষয়টি গোপন রেখে চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ফিলিপাইনের ব্যাংকো সেন্ট্রালের গভর্নর আমান্ডো টেটাংকো জুনিয়রের কাছে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি লেখেন। এরপর গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের দৈনিক  দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারারের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির খবর জানায়। এরপর বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যমেও এ খবর এলে তোলপাড় শুরু হয়। পরে গত ৭ মার্চ অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানায়নি। তিনি সংবাদমাধ্যম থেকে ঘটনা জেনেছেন। ওই দিনই বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা চুরির ঘটনা স্বীকারের পাশাপাশি দাবি করে, দেশের বাইরে থেকে হ্যাকাররা অর্থ চুরি করেছে। কিন্তু,সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যেভাবে টাকা চুরি হয়েছে তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ মার্চ চার দিনের সফরে দিল্লি যান গভর্নর আতিউর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এতবড় ঘটনার পরেও তার এ সফর বিতর্ক উস্কে দেয় এবং তার দায়িত্বহীনতার বিষয়টি জোরেশোরে আলোচিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বিদায়ী গভর্নর আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে বিচার দেন অর্থমন্ত্রী। পরদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আতিউরের ব্যাপার কথা বলেন তিনি। এরপর ১৫ মার্চ সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন গভর্নর আতিউর রহমান। একই দিন দুই ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাকে অপসারণ করা হয়। ওএসডি করা হয় অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলমকেও। এরপর নতুন গর্ভনরের দায়িত্ব পান সাবেক অর্থসচিব ফজলে কবির। কিন্তু তিনি দায়িত্ব নেয়ার কয়েক দিনের মাথায় সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ বন্ধ করা হলো।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY