জনতা ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়ি থেকে বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধার

0
192

জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার রাজিব হাসানের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার এ টাকা উদ্ধার করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার রেশ না কাটতেই রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের এ টাকা চুরির ঘটনা ফাঁস হলো।
জানা গেছে, রাজিব হাসানের ধানমণ্ডির বাসা থেকে বস্তাভর্তি ৭৮ লাখ, তার ডেস্কের ড্রয়ার থেকে ১৫ লাখ এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এর বাইরে তার অ্যাকাউন্টে বিপুল অংকের টাকা জমা ও উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জনতা ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল অফিসের ওই সিনিয়র কর্মকর্তা এফডিআরের (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট বা স্থায়ী আমানতপত্র) অর্থ তুলে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বিশেষ স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশেষ স্কোয়াড তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হলে চাকরি হারাবেন রাজীব হাসান।

চুরির টাকা গ্রাহকের নয়, শাখার নিজস্ব হিসাব থেকে ভাউচারের মাধ্যমে টাকা চুরি হয়েছিল। হিসাব-নিকাশ করে সঠিকভাবে ডেবিট-ক্রেডিট অ্যাডজাস্ট করা হয়েছে।

জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসে রাজিব হাসান দীর্ঘদিন ধরে এফডিআর অনুবিভাগে কাজ করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাউচার দিয়ে টাকা তুলেছেন। রবিবার বিকালে ভাউচারে গরমিল দেখতে পান অন্য কর্মকর্তারা। এরপরই বেরিয়ে আসে এফডিআরের নামে ভাউচার দিয়ে বিপুল অংকের টাকা তুলে নেওয়ার কাহিনী।

জনতা ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, টাকা উদ্ধারের পর সোমবার ব্যাংকের তৃতীয়তলায় একটি কক্ষে রাজিব হাসানকে দিনভর আটকে রাখা হয়। পরে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বৈঠক করেন শাখা ব্যবস্থাপক। এ ঘটনায় সোমবারই বিশেষ স্কোয়াড ওই শাখা পরিদর্শন করেছে।

স্কোয়াডের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাজীব হাসান এফডিআরের জমার বিপরীতে গ্রাহককে প্রদেয় মুনাফার কিছু অংশ নিজের হিসাবে জমা করতেন। এছাড়া গ্রাহককে যে পরিমাণ মুনাফা দেওয়ার কথা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ টাকার ভাউচার করতেন। এতেদিন ওই অতিরিক্ত টাকা তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY