রাসিকের নতুন বহুতল ভবন নির্মাণে আস্থা নেই ব্যবসায়ীদের

0
247

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে আস্থা নেই ব্যবসায়ীদের। উন্নয়নের নামে একের পর এক পুরাতন মার্কেট (দোকান ঘর) ভেঙে অত্যাধুনিক ভবন গড়ার নামে রাসিকের স্বেচ্ছাচারিতায় অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছে এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এ সকল সমস্যা কর্ণপাত না করেই আবারো নতুন ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাসিক।

ব্যবসায়ীরা জানান, আরডিএ মার্কেট সংলগ্ন কসমেটিকস গলি নামে পরিচিত প্রায় ৬ কাঠার উপরে আবারো নতুন করে ৫ তলা ভবনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে হয়েছে রাসিকের। কিন্তু আস্থা পাচ্ছেনা দোকান মালিকগন।

৩০ নম্বর দোকান মালিক শেখ আশরাফ আলী ও ২৭ নম্বর দোকান মালিক আব্দুল মতিন সকলের পক্ষে জানান, সেখানে ৪০টি দোকান ঘর রয়েছে। এরসঙ্গে দেড়শ পরিবার সম্পৃক্ত। উন্নয়নে তাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু একের পর এক পরিকল্পনা হাতে নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ব্যর্থ হয়েছে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি চিন্তা না করেই আবারো তারা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান ১৯৮৯ সাল থেকে তারা এই মার্কেটে রয়েছেন।

এছাড়াও তারা জানান, রাসিকের আহ্বানে শেষ আলোচনা হয় তাদের গত ২৮ ফেব্রুয়ারী। সেখানে তারা কিছু দাবী রেখেছেন। সামনে ঈদ আসছে। ঈদ ও পূজাকে ঘিরেই ব্যবসায়ীদের মূল ব্যবসা। এ জন্য কুরবাণি ঈদ পর্যন্ত দোকান ঘর ভাঙার কাজটি বন্ধ রাখা হোক। এছাড়াও আরডিএ মার্কেটের মুল সিঁড়ির সামনে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা সহ তিন মাসের মধ্যে সমপরিমান আয়তনে নতুন দোকান ঘর হস্তান্তর-এর দাবী করা হয়। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে দোকান ঘর হস্তান্তর করতে না পারলে পরবর্তী মাস হতে প্রত্যেক দোকান মালিককে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ অব্যাহত রাখতে হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিন বছরের মধ্যে ভবনের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়নি ৬ বছরেও। ২০০৯ সালে রাসিক ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে সোনা দিঘীর মোড়ে ১৬ তলা সিটি সেন্টার, নগর ভবনের পশ্চিম পাশে ৮তলা স্বপ্নচূড়া প্লাজা ও নিউ মার্কেট এলাকায় ৮তলা দারুচিনি প্লাজা নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তৎকালিন মেয়র । এছাড়াও আরডিএ মার্কেট সংলগ্ন মুড়িপট্টি, তেরখাদিয়া কাঁচা বাজার একইভাবে চুক্তি করা হয়। কিন্তু কোন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি রাসিক। এতে করে দোকান হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। কোন কোন ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিবর্তন করেছে, আবার কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে এবং অনেকে সর্বশান্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাসান জানান, সাহেব বাজার মুড়িপট্টি মার্কেটে রাসিক কর্তৃক বরাদ্দকৃত তাঁর একটি পাঁপড়ের দোকান ছিল। মার্কেটটি সিটি কর্পোরেশনের। সেখানে নতুন ভবণ নির্মানের উদ্যোগ নেন তৎকালিন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। মুড়িপট্টি মার্কেটের ২৭টি দোকান মালিককে ৬ মাসের মধ্যে নির্মানকৃত নতুন ভবণে দোকান ফেরৎ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অস্থায়ীভাবে লোকনাথ স্কুল সড়কে স্থানান্তর করা হয়। এখানে কি বেঁচা বিক্রি হয়। কে এখানে পাঁপড় কিনতে আসবে। আমরা শেষ হয়ে গেছি ভাই। পুঁজি বাট্টা সব শেষ। বর্তমানে বাধ্য হয়ে সংসার চালাতে প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন মার্কেটে পাঁপড় বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়।

ব্যবসায়ী বিজয় রায় জানান, মুড়িপট্টিতে তাঁর চমক বিতান নামে দুটি দোকান ছিল। স্থান পরিবর্তন হওয়ায় সেখানে ব্যবসা চলেনি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। গত বছর ব্যবসা পরিবর্তন করে ফটোষ্ট্যাট মেশিন বসিয়েছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY