বিএনপির আট নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী, দুজন ভিন্ন দল থেকে

0
398

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন তাঁরা। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা করেননি; হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দুজন আবার মনোনয়ন নিয়েছেন ভিন্ন দল থেকে। এ কারণে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী দিতে বাধ্য হয়েছে বিএনপি। বরগুনার তিন উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের ক্ষেত্রে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বিএনপির স্থানীয় নেতারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগসূত্র নেই, এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। বরগুনা সদরের চারটি, আমতলীর পাঁচটি, পাথরঘাটার একটিসহ জেলার প্রায় সব ইউপিতে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে দলটিকে। বিশেষ করে ওই ১০ ইউনিয়নে বিএনপির আটজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর বাইরে একজন বিএনপি নেতা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ও আরেকজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনয়ন নিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বরগুনা সদরের যে ১০টি ইউনিয়নে এবার নির্বাচন হচ্ছে, তার মধ্যে কেবল নলটোনা, বুড়িরচর ও ঢলুয়ায় চেয়ারম্যান পদে যোগ্য প্রার্থী দিতে পেরেছে বিএনপি। বাকি সাতটিতে দুর্বল এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা কম, এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে হয়েছে। সদর উপজেলায় দুজন বিএনপি নেতা বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান পদে আছেন। এর মধ্যে নলটোনার ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সফিকুজ্জামান এবারও দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন। কিন্তু বরগুনা সদর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য আবু জাফর দলীয় মনোনয়ন না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
অবশ্য, আবু জাফর গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবার আমি নির্বাচন করতে চাইনি। কিন্তু বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা একত্র হয়ে আমাকে সমর্থন দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে হচ্ছে।’
একইভাবে সদরের গৌরীচন্না ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফজলুল হক দলীয় মনোনয়ন নিতে অনাগ্রহ দেখানোয় জেলা ছাত্রদলের সদস্য রাশেদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাশেদুল এলাকায় তেমন পরিচিত মুখ নন। বদরখালীতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম মাতুব্বরকে। তিনি এলাকায় নতুন মুখ। এই ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সদস্য মতিউর রহমান ওরফে রাজা গত নির্বাচনে সম্মানজনক ভোট পেলেও এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন নেননি; হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ ছাড়া বালিয়াতলী ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সদস্য মনিরুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
আমতলী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নেও বিএনপির একই অবস্থা। এখানে দলটির তিন নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান হলেও দুজনই এবার দলীয় মনোনয়ন নেননি। অপরজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, আঠারোগাছিয়া ইউনয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়েছেন। কুকুয়ার বর্তমান চেয়ারম্যান কায়েসুর রহমান এবার দলীয় মনোনয়ন চাননি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এখানে মতিউর রহমান নামে একজনকে বিএনপি মনোনয়ন দিলেও তিনি তা জমা দেননি। মতিউর রহমান বলেন, ‘আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও চাইনি। জোর করে মনোনয়ন চাপিয়ে দেওয়ায় আমি মনোনয়নপত্র দাখিল করিনি।’
একই উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির সাবেক সাংসদ মতিয়ার রহমান তালুকদারের ভাগনে আবুল কালাম আজাদ। তিনিও দলীয় মনোনয়ন না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক তালুকদারও বিএনপির নেতা। এখানে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এ বি সিদ্দিকুর রহমান নামের একজনকে। এ ছাড়া চাওড়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. মহসিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একইভাবে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান জহির আহমেদ বশির সিকদার দলের মনোনয়ন নেননি। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন।
দলীয় মনোনয়ন বাছাই কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা আছে, এমন অনেক নেতাই দলীয় মনোনয়ন চাননি। এতে করে দল মারাত্মকভাবে প্রার্থীসংকটে পড়েছে। ওই নেতাদের যুক্তি, ক্ষমতাসীন দলের রোষানল এড়াতেই তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তবে তাঁরা দলের সঙ্গে আছেন। কিন্তু এই যুক্তি অগ্রহণযোগ্য। কারণ, এতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুবিধাবাদী ওই নেতাদের কারণে আমরা মনোনয়ন দিতে কিছুটা সমস্যায় পড়েছি। কিন্তু ভালো হোক, মন্দ হোক আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছি।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY